বিদ্যুতের লুকোচুরি: আধুনিক যুগেও ‘হারিকেন’ খুঁজছেন পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা

প্রকাশিত: ১:২৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

বিদ্যুতের লুকোচুরি: আধুনিক যুগেও ‘হারিকেন’ খুঁজছেন পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা

Manual2 Ad Code

প্রতীকী ছবি


দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
​সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

 

​বিদ্যুতের এই ভয়াবহ সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে দিরাই বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের এক অভিভাবক আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমাদের দিরাইয়ে এখন বিদ্যুৎ যায় না, বরং মাঝে মাঝে দয়া করে আসে।’ এর চেয়ে আগের হারিকেন যুগই বোধহয় ভালো ছিল। তখন সন্ধ্যা হলেই আমরা হারিকেন নিয়ে পড়তে বসতাম, হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতাম। এখন আমাদের সন্তানরা না পারছে বিদ্যুৎ ছাড়া অভ্যস্ত হতে, না পারছে এই গরমে পড়াশোনায় মন দিতে। আধুনিকতার দোহাই দিয়ে আমাদের প্রজন্মকে কি অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?”

 

Manual6 Ad Code

​সামনেই এসএসসি পরীক্ষা। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দিন-রাত মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং চলায় পরীক্ষার্থীদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, যার প্রভাব পড়ছে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর। অভিভাবকরা মনে করছেন, পড়াশোনার এই ব্যাঘাত দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

​বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে দিরাই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে একটি কঠিন সময় পার করছি। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, যার আঁচ বাংলাদেশেও লাগছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আমরা বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিচ্ছি।’

Manual4 Ad Code

 

​তবে কর্তৃপক্ষের এই ‘বৈশ্বিক কারণ’ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করতে পারছে না। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে বিদ্যুৎ যখন মৌলিক চাহিদায় পরিণত হয়েছে, তখন বিকল্প ব্যবস্থা বা সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কেন বারবার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সংকটে পড়বে? দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে দিরাইয়ের কয়েক হাজার পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

 

(সুরমামেইল/হেলাল আহমেদ/এফএ)

Manual3 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code