সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
জেলার বিভিন্ন হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টায় জামালগঞ্জের পাগনার হাওর, ধর্মপাশার টগার হাওর, দিরাইয়ের কালিয়াগোটা হাওর এবং তাহিরপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান, একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (২৩), দিরাই উপজেলার কৃষক লিটন মিয়া এবং তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা প্রশাসন জানায়, পয়লা বৈশাখ থেকে হাওরে ধানকাটা শুরু হয়েছে। এবার জলাবদ্ধতার কারণে কম্বাইন হার্ভেস্টরে ধান কাটা যাচ্ছে না। তাই শ্রমিকই ভরসা। কিন্তু বজ্রপাতসহ নানা কারণে শ্রমিকরাও এখন ধান কাটতে চান না। তারপরও স্থানীয় শ্রমিক ও কৃষকরা হাওরে পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন।
শনিবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তার চাচাতো ভাই তোফাজ্জল গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তোফাজ্জলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।
এদিন দুপুরে ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরের পাশে চাচার সঙ্গে চকিয়াচাপুর গ্রামে বোরো ধান কাটতে যান হবিবুর। এ সময় বজ্রপাতে হাবিবুর মারা যান। একই সময় উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর ইসলামপুর গ্রামে বজ্রপাতে জয়নাল হক, তার ছেলে রহমত উল্লাহ এবং একই এলাকার লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি (২৫) আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক রহমতকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আহত জয়নাল ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা প্রশান্ত দাস তালুকদার বলেন, উপজেলার কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন কৃষক লিটন মিয়া। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে তাহিরপুর উপজেলায় জামলাবাজ গ্রামে হাওরে একটি হাঁসের খামারে কাজ করছিলেন কালা মিয়া ও নূর মোহাম্মদ। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই কালা মিয়া নিহত হন। আহত নূর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
আহত নূর মোহাম্মদ (২৪) উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান বলেন, হতাহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, হাওরে শনিবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৫৫১ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। ধান কাটা উপযুক্ত হলেও পানির কারণে হার্ভেস্টর জমিতে নামছে না।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় শ্রমিকের পাশাপাশি বাইরের জেলার শ্রমিক নিয়ে আসতেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বজ্রপাত ও ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে অনেকে ধান কাটতে হাওরে নামতে চান না।
(সুরমামেইল/এসডি)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি