দলীয় নয়, পুলিশ চলবে বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২৬

দলীয় নয়, পুলিশ চলবে বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী: প্রধানমন্ত্রী

Manual2 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। দলীয় নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী তারা পরিচালিত হবেন। কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

Manual1 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

রোববার (১০ মে) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পুলিশের ‘কল্যাণ প্যারেডে’ তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাজ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালন। জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হোক আস্থা এবং নির্ভরতার। যেকোনও বিপদে-আপদে জনগণ যেন থানা-পুলিশকে তাদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে। পুলিশ যদি জনগণের কাছে বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে, তবে সেখানেই পুলিশের সাফল্য। পুলিশের সাফল্য মানে এটি সরকারেরও সাফল্য।

 

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মনে রাখা দরকার আইনি সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষ প্রথমেই থানায় আসেন। পুলিশের সহায়তা চান। সেখানে এসে তারা যেন রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের অংশ।

 

পুলিশ সদস্যদের মাঠ পর্যায়ে সরকারের দূত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যরা তাদের দক্ষতা এবং তাৎক্ষণিক কৌশলী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যেকোনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তারা শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য নন; তারা হলেন রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও ন্যায়বিচার প্রদানের প্রথম দ্বার।

 

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। আমি মনে করি, জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। এ কারণেই পুলিশের জন্য জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি। তাই কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউজ ডে’র মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।

 

তারেক রহমান বলেন, অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার এবং জাতীয় ঐক্যই প্রধান শক্তি। মনে রাখতে হবে, আমাদের পথ সহজ নয়, কিন্তু উদ্দেশ্য মহৎ। আমরা একটি সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।

 

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ ও আধুনিক মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এই কঠিন কাজটিই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। তাই সাধ্যের সবটুকু দিয়েই সরকার আপনাদের চাওয়া-পাওয়াগুলো অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

 

Manual3 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার পুলিশ প্রতিষ্ঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডাটা বিশ্লেষণসহ বিকাশমান প্রযুক্তির সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ লক্ষ্যেই সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

 

তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সমাজে বাল্যবিয়ে, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা চুরি-ডাকাতি, সংঘবদ্ধ অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা রয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। দেশে মাদক এবং অনলাইন জুয়ার বিষয়েও জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক সরবরাহকারী এবং মাদকের উৎসমূল টার্গেট করে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কার্যক্রম চালাতে হবে।

 

তিনি বলেন, সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায়। গুম-অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, পেশাদারত্ব ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি দুর্বল শাসন কাঠামো, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এমন বাস্তবতায় আমাদের পক্ষে আপনাদের সব প্রত্যাশা কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনোই পিছপা হবো না।

 

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Manual8 Ad Code

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code