ভূমধ্যসাগরে ১৮ জনের মৃত্যু: সিলেট বিমানবন্দর থেকে ‘মানব পাচারকারী’ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১:০০ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে ১৮ জনের মৃত্যু: সিলেট বিমানবন্দর থেকে ‘মানব পাচারকারী’ গ্রেপ্তার

Manual1 Ad Code

মিকাইল ইসলাম

Manual8 Ad Code


মেইল ডেস্ক:
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার সময় নৌকা ডুবে ১৮ বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় সুনামগঞ্জের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

নিহত ১৮ জনের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জ জেলার।

 

মোহাম্মদ মিকাইল ইসলাম (৫২) নামে গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি ‘সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী’ চক্রের সদস্য বলে বুধবার (১৭ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সিআইডি।

 

সোমবার বিকালে সিলেট বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

এছাড়া ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে খুলনা থেকে রাব্বানী ফরাজী (৩৫) নামে আরেক ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত এই শাখাটি।

রাব্বানী ফরাজী


সিআইডি বলেছে, রাব্বানীরা তিন ভাই একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য।

 

গেল ২৮ মার্চ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয়ের অভাবে দিরাইয়ের ছয়জনসহ সুনামগঞ্জের ১২জন যুবক মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন ও দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন সেই তালিকায় ছিল।

 

এ ঘটনায় দিরাই থানায় চারজনের নাম দিয়ে একটি মামলা করেছেন নিহত এক যুবকের বাবা।

 

মামলার বরাত দিয়ে সিআইডি বলছে, ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে নিহতদের একজন ও গ্রেপ্তারকৃত মিকাইল ইসলাম একই গ্রামের বাসিন্দা।

 

Manual5 Ad Code

মানব পাচার চক্রটি ইউরোপের দেশ গ্রিসে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ওই যুবকের পরিবারের কাছে ১৩ লাখ টাকা দাবি করে। চক্রের সদস্যরা প্রথমে ফ্লাইটে লিবিয়ায় পাঠানোর জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং গ্রিসে পৌঁছানোর পর আরও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের শর্ত দেয়।

 

দালাল চক্রের কথায় বিশ্বাস করে মাসুমের পরিবার এ অর্থ পরিশোধে সম্মত হন।

 

সিআইডি বলছে, ঢাকায় ১৭ দিন রাখার পর চক্রের সদস্যরা অন্যান্যদের সাথে প্রাণ হারানো এই তরুণকেও লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তার পরিবার ফোনে এই চক্রের এক সদস্যদের কাছ থেকে টাকা পাঠানোর নির্দেশনা পায়।

 

নির্দেশনা অনুযায়ী একটি ব্যাংক হিসাবে গত জানুয়ারিতে ৪ লাখ টাকা জমা দেন ওই তরুণের বাবা। কয়েকদিন পর অভিযুক্ত মিকাইল ইসলামের কাছে আরও দেড় লাখ টাকা দেয় পরিবারটি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে প্রাণ হারান এই তরুণ।

 

সিআইডিরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ায় পথ হারিয়ে টানা ৬ দিন খাবার ও পানীয় ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও চরম ক্লান্তিতে মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজনের। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয় বলে উদ্ধার হওয়া জীবিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

 

লিবিয়ার টাকায় খুলনায় বাড়ি

Manual3 Ad Code

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে খুলনা থেকে রাব্বানী ফরাজীকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে সিআইডি বলেছে, এই ব্যক্তি ও তার ছোট ভাই রুবেল ফরাজী আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সদস্য। চক্রটির মূলহোতা তাদের বড় ভাই আউয়াল ফরাজী। তারা বাংলাদেশ থেকে ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার আগ্রহী ব্যক্তিদের নিশানা করে নানা প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাঠাতেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের অবৈধভাবে আটক রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হতো এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মুক্তিপণের অর্থ আদায় করা হতো।

Manual2 Ad Code

 

সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, মানব পাচার ও মুক্তিপণের অর্থের মাধ্যমে রাব্বানী ও তার ভাই রুবেল নিজেদের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানিক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৩০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন করেছেন। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা খুলনা শহরে বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কিনেছেন।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code