শাহজালাল (রহ.) মাজার হবে আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লেক্স, হিসেব দিতে হবে দানের টাকার

প্রকাশিত: ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২৬

শাহজালাল (রহ.) মাজার হবে আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লেক্স, হিসেব দিতে হবে দানের টাকার

Manual4 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারকে আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।

 

একই সঙ্গে মাজারে দান করা অর্থের সচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত এবং মাজারের দান করা টাকার হিসেবে জনগণের সামনে প্রতি মাসে প্রকাশ করতে হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে করণীয় নির্ধারণ সভায় এসব কথা জানান তিনি।

 

বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গরা বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে পার্কিং ব্যবস্থা নেই। নেই তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্রের জন্য মিউজিয়াম। এছাড়া মাজার এলাকায় প্রতিদিনই চুরি, ছিনতাই হচ্ছে। যা রোধে সিসিটিভি স্থাপন করা প্রয়োজন।

 

এতে জেলা প্রশাসক বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত অনুরাগীরা বেকায়দায় পড়েন। তাই মাজার-মাদ্রাসা-মসজিদ, তিন স্থাপনার ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারের উদ্যোগ নিবে সরকার।

 

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে একটি মহাপরিকল্পনা করছে সরকার। এর আওতায় নান্দনিক মসজিদ তৈরি, মহিলাদের নামাজের স্থান, লাইব্রেরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তবে শিগগিরই নিরাপত্তা জোরদার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং টয়লেটের সমস্যা সমাধান করা হবে।

Manual4 Ad Code

 

সম্প্রতি মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে প্রশাসন। তবে মাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েক শতাব্দি ধরে চলে আসা এই পরম্পরা বন্ধ করার অধিকার সরকারের নেই। সরকার এই টাকায় ভাগ বসাতে চাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।

 

তবে মঙ্গলবারের সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘দান বা মানতের টাকা সরকার নেবার কোনো অবকাশ নাই। কিন্তু জনগণের দানকৃত সম্পদের হিসাব অবশ্যই থাকতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘মাজারে কত টাকা কালেকশন হয়, কে কালেকশন করে, কে বস্তা নিয়ে যায় তার হিসেব নেই। এখন থেকে হিসেব রাখতে হবে। ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে এই হিসেব রাখতে হবে।’

Manual4 Ad Code

 

তিনি বলেন, ‘এখন থেকে যৌথ ভাবে হিসেব রাখবে মাজার কমিটি ও ওয়াকফ প্রশাসন। মাজারের দানবাক্সের ছবি দুই পক্ষের কাছেই থাকবে। আদালতের নির্দেশে আগামী ১৫ দিন পর তালা খোলা হবে। এরপর থেকে প্রতিমাসে তালা খুলে কত টাকা আয় হলো দেখা হবে। আয়ের হিসেবে মিডিয়া থেকে শুরু করে সবাইকে জানাতে হবে। এই টাকা কীভাবে খরচ হবে এটা পরের বিষয়। আগে আয়ের হিসেব জানাতে হবে। এই আয়ের হিসেব জনগনের জানার অধিকার আছে। কারণ এটি জনগনের দানের টাকা।’

 

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখন থেকে দানবাক্স ছাড়া আর কোনভাবে টাকা গ্রহণ করা যাবে না। হাতেহাতে টাকা নেওয়া যাবে না।’

 

মাজারের খাদেম পরিবারের উদ্দেশে ডিসি মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘সরকার টাকাপয়সা নিবে না। সকার উন্নয়ন চায়। সরকার চায় সুন্দর সিলেট গড়ে উঠুক।’

 

Manual2 Ad Code

এতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণে সকলেই একমত। সিউক-এর প্রথম প্রকল্পই হবে, মাজারকেন্দ্রীক৷পরবর্তীতে বৃহৎ আলোচনার মাধ্যমে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে৷’

Manual8 Ad Code

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় মাজারের নিরাপত্তা জোরদার করবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী৷ সিসি ক্যামেরা ও টয়লেটের কাজ শেষ হবে।

 

এছাড়া মানতের টাকার রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিমাসে আয়ের হিসাব দেখবে প্রশাসন। বাক্সে টাকা উত্তোলন হবে, লকার থাকবে। চাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে থাকবে। এবং ভূমির ডিজিটাল সার্ভে করা হবে।

 

সভায় সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code