বোয়িং-এয়ারবাসের দ্বৈরথে বাংলাদেশে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ চায় ইইউ

প্রকাশিত: ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬

বোয়িং-এয়ারবাসের দ্বৈরথে বাংলাদেশে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ চায় ইইউ

Manual3 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বাংলাদেশের ‘খুব গুরুত্ব সহকারে’ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

 

Manual7 Ad Code

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে, এয়ারবাসের একটি অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে। এটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত এবং আমরা এয়ারবাস ও বিমানের মধ্যে খুব দ্রুত আলোচনা সমাপ্তির প্রত্যাশা করছি।’

 

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক ব্রিফিংয়ে এসে এয়ারবাস নিয়েও কথা বলেন তিনি।

 

মাইকেল মিলার বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির অনুরোধ করছি । আপনি যদি কোনো সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নে, তা যেন বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া হয় এবং আমাদের কোম্পানিগুলো যেন যে কোনো দেশের কোম্পানির সাথে তাদের সাধ্যমতো সর্বোত্তম প্রতিযোগিতা করতে পারে।’

 

নানা আলোচনার মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

 

এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই এয়ারক্রাফটগুলো বিমানকে সরবরাহ করবে বোয়িং।

 

বাংলাদেশের কাছে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বেচার কথা সম্প্রতি এক এক্স পোস্টে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। সেখানে তিনি এক নতুন চুক্তির কথা বলেন।

 

গোর বলেন, ‘চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি অসাধারণ চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক ক্রয়াদেশের চেয়ে অনেক বেশি।’

 

এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বোয়িং কিনতে রাজি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদও জানান।

Manual4 Ad Code

 

ট্রাম্প বলেন, ‘বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না, আমিও বিষয়টি ভুলব না। এ বিষয়ে মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খুব বেশি দিন নয়, অদূর ভবিষ্যতেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছি।’

 

একই দিনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে এবং আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিমানের ক্রয়াদেশ গেছে বোয়িংয়ের ব্যাগে।

 

তবে ইউরোপীয়দের চাপে তাদের কোম্পানি এয়ারবাস থেকেও এখন উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।

Manual4 Ad Code

 

রোববারের বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক, অশুল্ক বাধা দূর করা এবং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়।

 

এরআগে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকেও মাইকেল মিলার অশুল্ক বাধা দূর করার পাশাপাশি বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছিলেন।

Manual1 Ad Code

 

ইইউয়ের তরফে তখন ৬১টি অশুল্ক বাধার কথা বলা হয়েছিল। সরকার ছয় মাসে এর মধ্যে ৪৮টি দূর করেছে বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

এর মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন; বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করা এবং রপ্তানি পণ্যের ‘ট্রেসিবিলিটি’ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতা দূরীকরণ এবং যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়গুলো বলেন মন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে এ বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন আমরা তিন বছর পেছানোর জন্য আবেদন করেছি। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের দুইটা- মানে এই প্রসেসের দুইটা প্রক্রিয়া আমরা শেষ করেছি, এই প্রক্রিয়ার দুইটা ধাপ আমরা অতিক্রম করেছি ইউএন সিডিপি আর ইকোসক।

আর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এটা উত্থাপিত হলে আমরা আশা করছি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সম্মতি পাব। এটাই তাদের সমর্থন।’

 

রাষ্ট্রদূত মিলার জানান, ‘এ সপ্তাহের শেষ দিকে ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।’

 

অন্যদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ও বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code