সব তীর্থ বার বার পণ তীর্থ একবার

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০১৮

সব তীর্থ বার বার পণ তীর্থ একবার

Manual1 Ad Code

পণতীর্থ ধামের পরিচিতি : সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার অন্তর্গত জাদুকাটা নদীর তীর। পবিত্র এ স্থানটি সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে তীর্থস্থান হিসেবে বিশেষ মাহাত্ম্য বহন করে। স্থানটি পণতীর্থ ধাম হিসেবে সর্বজন পরিচিত। শ্রী শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর পার্ষদ মহাবিষ্ণুর অবতার শ্রীল অদ্বৈত আচার্য ঠাকুরের আবির্ভাব স্থল বা লীলাভূমি এই পণতীর্থ ধাম। অদ্বৈত আচর্য ঠাকুরের মূল আবির্ভাব ভূমি বাদাঘাট ইউনিয়নের নবগ্রামে। নব গ্রাম ছিল লাউড় রাজ্যের (প্রাচীন শ্রীহট্টের একটি রাজ্য) লাউড়ের গড় এলাকা। কিন্তু নব গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বহু আগে। বর্তমানে অদ্বৈত আচার্য ঠাকুরের যে মন্দিরটি রয়েছে তা যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী লাউড়ের গড়ের পাশের রাজারগাঁও গ্রামে। যদিও অদ্বৈত আচার্যের স্মৃতিচিহ্ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তবুও স্থানটি সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে মহা তীর্থ স্থান।

Manual4 Ad Code

স্থানটি সম্পর্কে অদ্বৈত প্রকাশ, অদ্বৈত মঙ্গল ও ভক্তিরতœাকরসন সহ বহু বৈষ্ণবীয় গ্রন্থে বিস্তর বর্ণনা রয়েছে। চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিকে বলা হয় মহা বারণী। “বারুণী যোগেতে স্নান বহু ফলপ্রদ। ” অদ্বৈত প্রকাশ গ্রন্থ ২য় অধ্যায়। তাই প্রতিবছর বারুণী যোগে জাদুকাটা নদীর তীরে বহু লোকের সমাগম হয় স্নানযাত্রা মহোৎসবে। সব তীর্থ বার বার স্নানে যে পূণ্য লাভ হয় পণতীর্থ একবার স্নানে সেই পূণ্য লাভ হয়ে থাকে। কারণ সেখানে সপ্ত গঙ্গা একসাথে প্রবাহিত হয় উক্ত তিথিতে। তাই সব তীর্থ স্নান করলেও পণতীর্থে স্নান আবশ্যক। তাই বলা হয় সব তীর্থ বার বার পণতীর্থ একবার। তীর্থগণও পণ করে গিয়েছিলেন পৃথিবী যতদিন বর্তমান থাকবে ততদিন প্রতিবছর মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে তীর্থগণের আগমন ঘটবে এ স্থানে। সেই থেকে আজ অবধি উক্ত তিথিতে সপ্ত গঙ্গা প্রবাহিত হন।

Manual3 Ad Code

পণতীর্থ নামকরণের মাহাত্ম্য: ‘অদ্বৈত প্রকাশ’ গ্রন্থে পণতীর্থের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বলা হয়েছে অদ্বৈত আচার্য প্রভুর বৃদ্বা জননী নাভাদেবী একদিন রাত্রে স্বপ্নে দর্শন করেন যে, তিনি সমস্ত তীর্থ জলে স্নান করছেন। ভোর বেলা স্বপ্ন ভেঙ্গে ধর্মশীলা নাভাদেবী স্বপ্নের কথা চিন্তা করে বড়ই বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কারণ চলার মত এই অযোগ্য দেহ নিয়ে কিভাবে তিনি গঙ্গা স্নান করতে যাবেন। অদ্বৈত আচার্য প্রভু মায়ের এই বিমর্ষতার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাঁর মা তাঁকে স্বপ্নের কথা জানান এবং এই চলার অযোগ্য এই দেহ নিয়ে তীর্থ যাত্রা তাঁর জন্য বড়ই দুষ্কর সে কথাও জানান। যার জন্যই তিনি বিমর্ষ। মায়ের তীর্থ স্নান করার অভিলাষ এবং বিমর্ষতার কথা চিন্তা করে অদ্বৈত আচার্য ঠাকুর পণ করলেন যে, এই স্থানেই তিনি সমস্ত তীর্থ অর্থাৎ সপ্ত গঙ্গার আর্বিভাব করাবেন এবং মায়ের অভিলাষ পূর্ণ করবেন। অদ্বৈত আচার্য প্রভুর অপ্রাকৃত শক্তির বলে তীর্থ সমূহকে আকর্ষণ করে লাউড়ের এক ক্ষুদ্র পাথরের অপর একটি ঝরণার ধারায় তীর্থ পরিপূর্ণ হয়ে গেল। আর তাতে তাঁর মা জননী স্নান করে পরিতৃপ্ত হলেন। শুধু সপ্তগঙ্গা নয় যাঁর হুহুংকারে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এ ধরাধামে আসতে বাধ্য হন। এজন্য অদ্বৈত আচার্য প্রভু গৌর আনা গোঁসাই নামে পরিচিত। অদ্বৈত আচার্য প্রভু পণ (প্রতিজ্ঞা) করে সপ্ত গঙ্গার আনয়ন করেছিলেন বলেই স্থানটির নাম হল পণতীর্থ। অদ্বৈত আচার্য প্রভু কি জয়।

লেখক : সজল চন্দ ছড়াকার ও কলাম লেখক।

 

Manual4 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code