‘আমি স্বৈরশাসক, মাঝে মাঝে স্বৈরশাসকের প্রয়োজন হয়’: ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

‘আমি স্বৈরশাসক, মাঝে মাঝে স্বৈরশাসকের প্রয়োজন হয়’: ট্রাম্প

Manual2 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণের পর নিজেকে একজন ম্বৈরশাসক বা একনায়ক বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

 

বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সাধারণত তাকে একনায়ক বলা হলেও মাঝে মাঝে পরিস্থিতি সামাল দিতে তেমন একজনের প্রয়োজন পড়ে।

 

দাভোসে বক্তৃতা শেষে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, অর্থনৈতিক প্রধান ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন ট্রাম্প।

 

Manual8 Ad Code

সেখানেই তিনি বলেন, তার বক্তব্য ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে আমার বক্তৃতার এত প্রশংসা হয়েছে। সাধারণত তারা বলে, তিনি (ট্রাম্প) একজন ভয়ঙ্কর স্বৈরাচারী ধরনের মানুষ। আমি স্বৈরশাসক। কিন্তু মাঝে মাঝে একজন স্বৈরশাসকের প্রয়োজন হয়। তবে এবার তারা আমাকে নিয়ে সেসব কিছুই বলেনি।”

 

Manual6 Ad Code

ট্রাম্পের নিজেকে স্বৈরশাসক বলা এটিই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগেও তিনি ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, তিনি একনায়ক হবেন- তবে সেটি কেবল ক্ষমতার প্রথম দিনের জন্য।

 

তাছাড়া গত বছরের অগাস্টে ওয়াশিংটনে কড়াকড়ি আরোপের সময়ও তিনি বলেছিলেন, অনেক আমেরিকানই একজন স্বৈরশাসককে পছন্দ করতে পারে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন যে, তিনি স্বৈরশাসক নন, বরং একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান মানুষ।

Manual5 Ad Code

 

ক্ষমতাধর ও কট্টরপন্থি নেতাদের প্রশংসা করা ট্রাম্পের পুরনো অভ্যাস। বিভিন্ন সময়ে তিনি রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘জিনিয়াস’, চীনের শি জিনপিংকে ‘অত্যন্ত সম্মানিত’ এবং উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনকে ‘শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

সম্প্রতি ট্রাম্পের একাধিক সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণ করেছে মার্কিন বাহিনী। বর্তমানে ভেনেজ়ুয়েলার প্রশাসন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

 

ইরানকে ক্রমাগত হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে তিনি যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তা নিয়েও বিশ্ব রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্পের অটল অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে একাধিক ইউরোপীয় দেশ।

 

এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্রও রয়েছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন দেশের উপর উচ্চ হারে শুল্ক চাপিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অনেকের মতে, এই একতরফা শুল্কনীতি ট্রাম্পের একনায়কসুলভ মানসিকতার প্রতিফলন।

 

যদিও ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে এসেছেন, তার নীতি আমেরিকা সর্বাগ্রে। অর্থাৎ, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ, তারপর অন্য দেশ। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

 

ট্রাম্প অবশ্য গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে কয়েক সপ্তাহের হুমকির পর বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে নিজের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন।

 

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে তিনি আপাতত বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন এবং গ্রিনল্যান্ডে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

 

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক ডিল’ বা চুক্তির কাঠামো তৈরির পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

ট্রাম্পের এই আকস্মিক নমনীয়তা আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পারের দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

 

(সুরমামেইল/এমএইচ)

Manual6 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code