ইরানের সেনাবাহিনীর ‘রেডলাইন’ ঘোষণা

প্রকাশিত: ৯:৪২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২৬

ইরানের সেনাবাহিনীর ‘রেডলাইন’ ঘোষণা

Manual1 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে তারা বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে রেডলাইন ঘোষণা করে।

 

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা সেনাদের জন্য রেডলাইন। কোনোভাবেই লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা জনসম্পত্তি ও কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষায় প্রস্তুত।

Manual7 Ad Code

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে নতুন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এই সতর্কবার্তা এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে।

Manual1 Ad Code

 

দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শুরু হলেও দ্রুতই তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই ‘দাঙ্গা’ উসকে দিচ্ছে।

 

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এতে ‘দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করা হয়। একই সঙ্গে শিরাজ, কোম ও হামেদান শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজার দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

 

ইন্টারনেট যোগাযোগ এখনো ব্যাপকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পশ্চিম ইরানের এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোনে জানান, তার এলাকায় বিপ্লবী গার্ডস মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে তিনি পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছা জানান।

Manual2 Ad Code

 

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, এতে কয়েকজন নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বর্তমান পরিস্থিতি চলতে দেওয়া ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলেও জানানো হয়।

 

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অধীনস্থ নিয়মিত সেনাবাহিনী জানায়, তারা জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং জনসম্পত্তি রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

 

এদিকে বিদেশে অবস্থানরত ইরানের সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু রাস্তায় নামা নয়; শহরের কেন্দ্রগুলো দখল করে ধরে রাখার প্রস্তুতি নেওয়া। তিনি পরিবহন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের দেশব্যাপী ধর্মঘটের আহ্বানও জানান।

 

Manual2 Ad Code

এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ইরানি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর জবাব দেবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, তোমরা যদি গুলি চালাও, আমরাও গুলি চালাব।

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code