ঘুষের সাথে নায়িকা-মডেল সাপ্লাই শামীমের; সম্পদের পাহাড়ের সন্ধান

প্রকাশিত: ১০:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

ঘুষের সাথে নায়িকা-মডেল সাপ্লাই শামীমের; সম্পদের পাহাড়ের সন্ধান

Manual5 Ad Code

পূর্ত অধিদপ্তরের সদ্য বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে একচ্ছত্র ঠিকাদার বাণিজ্য দখলে রাখতে মাফিয়া ডন জি কে শামীম ১ হাজার ১শ’ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। বিদায়ী উপ-প্রধান প্রকৌশলীসহ ২০ কর্মকর্তাকে দিয়েছেন ৪শ’ কোটি টাকা। অনেকের মনোরঞ্জনে শয্যায় পাঠাতেন নায়িকা ও মডেল।

র‌্যাবের অভিযানে আটক জি কে শামীম চলতেন সাত জন গানম্যান, ২০টি আধুনিক মোটরসাইকেল বহরে সাইরেন বাজিয়ে। স্বঘোষিত মাফিয়া মুঘল যিনি যুবদল থেকে যুবলীগে এসে টাকা ও ক্ষমতার খনি পেয়েছিলেন।

Manual1 Ad Code

কোথায় কোথায় কত টাকা দিয়েছেন, কোথায় কোন কোন নায়িকা মডেল যৌন বাণিজ্যের সেক্সগার্লদের পাঠাতেন সব রিমান্ডে বলছেন। বলছেন নিজের অঢেল সম্পদ গড়ার কাহিনি। পুলিশ তদন্তের স্বার্থে সব জানাতে চাইছেন না। সামনে তার সূত্রে আরো অপরাধী যাচাই বাচাই করে পাকড়াও করা হবে। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বশীলরা। অভিযানে বিপুল যে নগদ টাকা মমদ পাওয়া গেছে জিজ্ঞাসাবাদে তার চেয়ে ভয়ংকর সব কাহিনি ও অর্থ সম্পদের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

বান্দরবানে জি কে শামীমের আরেক সম্পদের পাহাড় সন্ধান: যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি চালিয়ে আসা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম, নামে বেনামে বিভিন্ন কোম্পানি গঠন করে সম্পদের পাহাড় বানিয়েছে। বান্দরবান সদরের মৌজায় প্রায় ৬০ একর জমি কেনা হয়েছে সিলভান ওয়াই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের নামে।

এই সিলভান ওয়াই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার পরিচালকদের একজন ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া টেন্ডার মাফিয়া যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম (জি কে শামীম)। অগাধ বিত্ত-বৈভব আর প্রভাবশালী এই যুবলীগ নেতার আয়ের টাকা বিনিয়োগ হয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও।

Manual7 Ad Code

কোম্পানির রেজল্যুশন কপির তথ্য অনুযায়ী, সিলভান ওয়াই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড নামে বান্দরবান সদরে এই কম্পানির কোনো অফিস নেই। ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল সিলভান ওয়াই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের একটি বোর্ড মিটিং বান্দরবান সদরের ৩১৩ নম্বর রেজি: অফিসে অনুষ্ঠিত হয়। এ কারণেই মূলত বান্দরবান সদরের ৩১৩ নম্বর মৌজা এলাকায় রেজি: অফিস ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।

জি কে শামীম এখানেও কায়েম করেছেন তাঁর দখলদারি। সাইঙ্গ্যা মারমা পাড়া, হাতিভাঙা ত্রিপুরা পাড়া ও লাইমী (বম) পাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সিলভান ওয়াই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড এখানে কমপক্ষে ১০০ একর জমি জবরদখল করেছে। নানাভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে স্থানীয় লোকজনকে। পাশাপাশি প্রশাসনকে নিজের স্বার্থসিদ্ধির কাজে লাগাতে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য জমি দান করে সেখানে পাকা ভবনও করে দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতল ভবনটি নির্মাণের কাজ এখন অনেকটাই এগিয়ে গেছে। শিগগিরই এই ভবনে পুলিশ ফাঁড়ি স্থানান্তরিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জেনেছে স্থানীয় লোকজন।

রেজল্যুশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন কোম্পানির চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল করিম চৌধুরী স্বপন, পরিচালক গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জামিল উদ্দিন শুভ, অপর চার পরিচালক যথাক্রমে এস এইচ এম মহসিন, উম্মে হাবিবা নাসিমা আক্তার, জিয়া উদ্দিন আবির ও জাওয়াদ উদ্দিন আবরার উপস্থিত ছিলেন।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিলভান ওয়াই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মন্টুকে বান্দরবান সদরের ৩১৩ মৌজার ৮০৭ নম্বর হোল্ডিংয়ের ০.১৮৩৭ একর (প্রায় সাড়ে ১৮ শতক) তৃতীয় শ্রেণির জমি বিক্রি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনে ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

পরে এই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে ওই জমি দান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আবার বোর্ডসভায় ‘পুলিশ সুপার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা’কে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তবে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে ‘মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার, পুলিশ সুপার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা’ বরাবরে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে ‘পুলিশ সুপার’ পদের বিপরীতে রেজিস্ট্রেশন না করে ব্যক্তি ‘মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার’ লেখা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

আবার এই কোম্পানির বোর্ডসভায় জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত হলেও ‘দান’ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি এবং সেই জমিতে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জমি দানের পর কোম্পানির টাকায় ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে বলে বান্দরবান জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

Manual2 Ad Code

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, জি কে শামীম সিন্ডিকেটের প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে ৬০ একর জমি কেনার কথা প্রচার করে। কিন্তু এখন কম্পানির দখলে আছে প্রায় ১০০ একর জমি। বর্তমানে সেখানে প্রতি একর জমির গড় মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। সেই হিসাবে বাড়তি ৪০ একর জমি দখল করে প্রায় দুই কোটি টাকার জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কোম্পানি। তারা আরো দখলপ্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code