নবীগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: জনতা হাতে আটক ধর্ষক, ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০২৬

নবীগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: জনতা হাতে আটক ধর্ষক, ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ

Manual2 Ad Code

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে গ্রামের দোকানে মজা আনতে গেলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে নয় বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণীর এক শিশু শিক্ষার্থী। এনিয়ে তোলপাড় শুরু হয় এলাকায়।

 

রোববার (২৪ মে) বিকেলে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের পানিউম্দা ইউনিয়নের বড়চর গ্রামে ঘটনাটি সংঘটিত হয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলো দুই বখাটে।

 

সোমাবার (২৫ মে) দুপুরে ভিকটিমের মা ও বাবা মেয়েটিকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। ওই সময় তারা সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

 

এদিকে সোমবার রাতে ধর্ষক আফরোজ মিয়াকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বাহুবলের দ্বিগম্বর বাজার থেকে তাকে আটক করেন জনতা।



জানাযায়, গতকাল (রোববার) বিকালে বড়চর গ্রামের শিশুকন্যা ও বড়চর সরকারী প্রাইমারী স্কুলের ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী ওই গ্রামের দোকানে যাওয়ার পথে একই গ্রামের মৃত কনর মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৩৫) ও তার অপর সঙ্গীকে নিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে জোরপুর্বক পাশের বাঁশ ঝাড়ের নির্জনস্থানে মুখে গামছা বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

 

Manual6 Ad Code

স্থানীয় শিশু মেয়েটির চিৎকার শুনে কয়েকজন এগিয়ে আসলে ধর্ষণকারীরা তারা পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্থানীয় ভাবে কয়েকজন বিষয়টি আপোষে মীমাংসার চেষ্টা করেন।

 

ওই ছাত্রীর পিতা বাড়িতে না থাকায় পরদিন সোমবার দুপুরে ধর্ষণের শিকার শিশু মেয়েকে নবীগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসক ওই ছাত্রীকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

Manual1 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

স্কুলছাত্রীর মা কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তাঁর শিশুকন্যা মজা খাওয়ার জন্য স্থানীয় একটি দোকানে যাওয়ার পথিমধ্যে মুখে গামছা বেঁধে একটি বাঁশ ঝাড়ের পাশে নির্জনস্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে একই গ্রামের কনর মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া ও তার সঙ্গী। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি আচ করতে পেরে ধর্ষকদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

 

Manual5 Ad Code

ধর্ষণের শিকারের শিশু কন্যার বাবা বলেন, আমার অবুঝ মেয়েকে ধর্ষণ করে বখাটে আফরোজ ও তার সঙ্গী আমাকে হুমকি দিয়ে আপোষের চেষ্টা করছে।

 

তিনি কিছুতেই আপোষ করবেন না জানিয়ে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও ফাঁসি চান চেয়েছেন। তিনি বলেন, এখনো তিনি কোন মামলা করেননি। মেয়ের চিকিৎসা শেষে থানায় মামলা দিবেন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। গ্রামের কয়েকজনের সাথে কথাও বলেছি। তারা ঘটনাটি সঠিক বলে জানিয়েছে। তবে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

 

গোপলার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজল চন্দ্র দাশ বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর সাথে কথা হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

এদিকে পালিয়ে থাকা শিশু ধর্ষক বখাটে আফরোজ মিয়াকে (৩০) বাহুবল উপজেলার দ্বিগম্বর বাজার থেকে জনতা ধরে উত্তম দিয়ে ঘটনাস্থল নবীগঞ্জের বড়চর গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কয়েক হাজার জনতা তাৎক্ষনিক ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

 

খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার সময় জনতা ধর্ষক আফরোজ মিয়াকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ধর্ষক আফরোজ মিয়া থানা হেফাজতে রয়েছে।

 

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোনায়েম মিয়া বলেন, আমরা ভিকটিমের বাবাকে খবর দিয়েছি। তিনি আসলে মামলা দায়ের করা হবে। অভিযুক্ত আফরোজ মিয়া থানা হেফাজতে রয়েছে।

 

(সুরমামেইল/এমএএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code