সিলেট ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২৬
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলার গোপালীছড়ায় প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর ও শ্রীপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েকশ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদিকে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নে মনু নদীর তীব্র ভাঙনে একটি কবরস্থান, একটি মক্তব ও ছয়টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার, মুন্সীবাজার ও শমশেরনগর ইউনিয়নে লাঘাটা নদীর পানি উপচে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাজনগর উপজেলার উদনা নদী সংলগ্ন পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামেও পানি প্রবেশ করায় অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বসতবাড়িতে পানি ওঠায় গবাদি পশু ও আসবাবপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলায় ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, তিন দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি সকালে বৃদ্ধি পেলেও দুপুর থেকে কমা শুরু করেছে। বৃষ্টি না হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।
কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের পানিবন্দি কামাল আহমেদ বলেন, বৃষ্টির কারণে মধ্য রাত থেকে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। সকালে আমাদের রাস্তা ও বাড়িতে পানি উঠে।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে এসেছি। কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করে রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেলেও দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন বলেন, আখাইলকুড়া ইউনিয়নে মনু নদীর তীরবর্তী প্রায় শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ জায়গা ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এতে কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা রাতে সেই এলাকা পরিদর্শন করেছি। আজ দিনেও পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, রাতের বৃষ্টিতে জেলার নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি নজরদারি করছি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যা দূর্গত মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
(সুরমামেইল/এমবিএন)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি