‘ড. সফিউদ্দিন ছিলেন আমাদের ডিরোজিও’

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২৬

‘ড. সফিউদ্দিন ছিলেন আমাদের ডিরোজিও’

Manual2 Ad Code

সিলেট:
বাংলাদেশের অন্যতম ভাষা ও সাহিত্য গবেষক অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, ছিলেন জ্ঞানের এক আলোকবর্তিকা। তিনি ছিলেন আমাদের ‘ডিরোজিও’। তাঁর মেধা ও মনন দিয়ে সমাজকে ঋদ্ধ করেছেন। বিশেষ করে সিলেট ও এমসি কলেজের আঙিনায় তিনি যে ধ্রুপদী শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলেছিলেন, তা আজ বিরল—স্মরণসভায় অংশ নেওয়া বক্তারা এমন মন্তব্য।

Manual1 Ad Code

 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে আজীবন শিক্ষাব্রতী, মুরারিচাঁদ কলেজের খ্যাতিমান অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক-গবেষক ড. সফিউদ্দিন আহমদের প্রয়াণে আয়োজিত শ্রদ্ধা ও স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন মুরারিচাঁদ বাংলা সম্মিলনের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত শাহ ফরিদী, ড. এনামুল হক সরদার, অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান ও মোহাম্মদ বিলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য নাখেন সংগঠনের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ মো. আব্দুল জলিল।

Manual8 Ad Code

 

এছাড়া বক্তব্য রাখেন টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নীলুফার খানম, অধ্যাপক অনুপা নাহার ওয়ালেদা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামসুল বাসিত শীরু, সিনিয়র সাংবাদিক অপূর্ব শর্ম্মা, আইনজীবী মো. শাহজাহান, কবি নাজমা বেগম, মুক্তাদির আহমদ মুক্তা, ব্যাংকার আনোয়ার হোসেন রনি, সুমন বনিক, প্রণব কান্তি দেব, অধ্যাপক খালেদ উদ দীন, কাসমির রেজা প্রমুখ।

 

স্মরণসভার সূচনাপত্র উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জফির সেতু।

 

Manual8 Ad Code

বিশ্বনাথের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনিকাঞ্চন চৌধুরী মিলা এবং সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সিনিয়র শিক্ষক কোহেলী রায়ের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদের জীবনপঞ্জি পাঠ করেন হোসনে আরা কাকালী।

 

বক্তারা বলেন, তাঁর প্রয়াণে দেশ কেবল একজন গবেষককেই হারায়নি, হারিয়েছে একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীকে। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। এই স্মরণসভা শুধু শোক প্রকাশের স্থান নয়, বরং তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বক্তারা তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের প্রস্তাবও দেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর সম্পর্কে জানতে পারে।

 

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করে বলেন, স্যার ক্লাসে প্রবেশ করলে মনে হতো যেন একটি জীবন্ত লাইব্রেরি সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তাঁর পাঠদান ছিল অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও প্রাণবন্ত। জটিল বিষয়গুলো সহজভাবে শিক্ষার্থীদের মনে গেঁথে দিতে পারতেন তিনি। শিক্ষক হিসেবে কঠোর হলেও ব্যক্তি জীবনে ছিলেন অত্যন্ত মানবিক ও কোমল। পাঠ্যসূচির বাইরেও তিনি জীবনবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতেন।

 

শোকপ্রস্তাব পাঠ ও অনুমোদন করেন মাহবুবুজ্জামান চৌধুরী। স্মরণসভায় ‘আমি তোমাদেরই লোক’ শীর্ষক একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এর সংকলন-সম্পাদনা বিষয়ে প্রাককথন উপস্থাপন করেন পুলিন রায়। অনুভূতি ব্যক্ত করেন প্রয়াত শিক্ষকের পুত্র সাকি আহমদ।

 

অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন মুরারিচাঁদ কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী চন্দ্রিকা ও গায়ত্রী রায়। শেষে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

(সুরমামেইল/সংবাদবিজ্ঞপ্তি)

Manual7 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code