সিলেট ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট নগরীর নিজ বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহকর্মীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার ভেতরে রক্তাক্ত লাশগুলো দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন।
তবে, কারণে নিজ বাসায় তাদের খুন করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
নিহতরা হলেন- নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিতালী ১১১, নিকুঞ্জ ভিলার বাসিন্দা মৃত আবরু মিয়ার ছেলে হাজী আব্দুস সত্তার মিয়া (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)। তাহমিনা নগরের জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা। আব্দুস সত্তার মিয়ার গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আকাখাজনা এলাকায়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ওই ব্যক্তি সিলেট চেম্বারের পরিচালক ছিলেন। হত্যার প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও পুলিশ এ বিষয়ে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। নিহতের এক মেয়ে আমেরিকায় থাকে।
মিতালী আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা বলেন, সকালে বাসার ভেতরে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই-এর ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার সকালের দিকে কোনও এক সময়ে দুর্বৃত্তরা প্রাচীর ঘেরা এই বাড়িটিতে প্রবেশ করে এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে তিনজনের গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুন হওয়া আব্দুস সাত্তার এলাকায় একজন পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনজনকে ঘরের ভেতর জবাই করে হত্যার এই ঘটনায় পুরো রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতা বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পূর্ব শত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ডাকাতির উদ্দেশে এই হত্যাকাণ্ড- তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি