সিলেট ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬
সিলেট:
মুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে সিলেট জেলা পরিষদের আয়োজনে প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে সিলেট মুক্ত হয়। আগামী ১৫ ডিসেম্বর দিবসটি পালন করা হবে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পীকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বীক্রম।
মুক্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কুক্ষিগত রাখা হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে না। মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের গৌরবগাঁথা ইতিহাস রয়েছে। সেই ইতিহাস তরুণ প্রজন্মকে জানাতে সিলেট মুক্ত দিবস উদযাপন করা হবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর সিলেটের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান করা হবে। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিশিষ্টজনদের লেখা সম্বলিত স্মারকগ্রন্থ বের করা হবে। যেটা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দলিল হিসেবে থাকবে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই ইতিহাস তুলে ধরতে এই দিবসের তাৎপর্য অনেক বেশি বলে অভিমত জানান বক্তারা।
সিলেট জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপন সিংহের সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাস এন্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সাবেক সভাপতি আহমেদ নূর, বর্তমান সহ-সভাপতি এমএ হান্নান, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, যমুনা ওয়েল কোম্পানী লিমিটেডের পরিচালক (স্বতন্ত্র) সালেহ আহমদ খসরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেদানন্দ ভট্টাচার্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছদর উদ্দিন চৌধুরী ও সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্যে সিলেট জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সিলেটে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে যারা সিলেটকে মুক্ত করেছেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সেটা জানে না। তরুণ প্রজন্মকে সেই গৌরবগাঁথা ইতিহাস জানাতে ও দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই দিবস উদযাপনের আয়োজন করেছে জেলা পরিষদ। আগামী ১৫ ডিসেম্বর বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠান করা হবে।
তিনি বলেন, এতদিনেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ এখনও গড়ে উঠেনি। মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলে নেতৃত্ব দিয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও জাতীয় সংসদের স্পীকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সকলের পরামর্শ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি স্মরণীয় করে পালন করা হবে।
সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর বলেন, জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। রচনা প্রতিযোগিতা খুবই ভালো উদ্যোগ। মাধ্যমকি ও উচ্চ মাধ্যমিক এই দুই বিভাগে ভাগ করে রচনা প্রতিযোগিতা হতে পারে। এছাড়া পত্রিকায় ক্রোড়পত্র বের করা যেতে পারে।
মুক্ত আলোচনায় জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সিলেটে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই অনুষ্ঠান স্মরণীয় রাখতে সবধরনের সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত। অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করতে স্বেচ্ছাসেবকসহ সবধরণের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হবে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা বলেন, সিলেট বিভাগে অনেক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা আছেন, এই অনুষ্ঠানে তাদেরকে সম্মাননা দেয়া যেতে পারে। অনুষ্ঠান সফল করতে সিলেট জেলা প্রশাসন সবধরনের সহযোগিতা করবে।
সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আহমেদ নূর বলেন, যারা এই অঞ্চলে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, এই বিষয়ে সমৃদ্ধ প্রকাশনা বের করলে তরুণ প্রজন্ম অনেক উপকৃত হবে। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, সিলেট মুক্ত দিবস অনেকেই জানেন না। দিবসটি তরুণ প্রজন্মকে জানাতে হবে। সিলেট জেলা পরিষদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেট মুক্ত দিবস উদযাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায় শেষ হবে। এই দিবস উদযাপনের মাধ্যমে দায়মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ ক্রোড়পত্র যেটা বের হবে, সেটাতে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ইতিহাস উঠে আসবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বারবার হোটচ খেয়েছে। এখন বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এসেছে। সিলেট মুক্ত দিবস উদযাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস উঠে আসবে। তিনি বলেন, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তরুণ প্রজন্ম শিখবে, জানবে কিভাবে সিলেট মুক্ত হয়েছে। দেশাত্মবোধ জাগ্রত করার জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা যেতে পারে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এমসি কলেজে সংগঠিত যুদ্ধের ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। এই দিবস উদযাপনের মাধ্যমে এই প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। বর্তমান স্পীকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদও মুক্তিযুদ্ধের বই লিখেছেন। সেখানেও সিলেটের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রয়েছে। তিনি বলেন, কানাইঘাটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যুদ্ধের সঙ্গী মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ আসবেন, আমরা যুদ্ধের ইতিহাস তার মুখ থেকে জানবো। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ চমৎকার। এর মাধ্যমে সরাসরি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্য থেকে স্মারকগ্রন্থ বের করা যেতে পারে। ফলে এটা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দলিল হয়ে থাকবে।
মুক্ত আলোচনায় সিলেট জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী জানান, খুব শিগগির অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হবে। পরে সেই কমিটি বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করবে। সকলের অংশগ্রহণে একটি সুন্দর ও সফল অনুষ্ঠান বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
(সুরমামেইল/সংবাদবিজ্ঞপ্তি)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি