সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতে আটক ৩ সাংবাদিক, মারধর

প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতে আটক ৩ সাংবাদিক, মারধর

Manual3 Ad Code

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে তিন সাংবাদিককে মারধর ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলে তাদের আটকে রেখে মারধরের এই ঘটনা ঘটে।

Manual8 Ad Code

ভুক্তভোগীদের দাবি, হলটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে- এমন খবর পেয়ে সেখানে সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছিলেন তারা। তবে বুয়েট ছাত্রলীগের দাবি, সেখানে অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

Manual4 Ad Code

হামলার শিকার তিন সাংবাদিক হলেন- দৈনিক জনকণ্ঠের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার মুনতাসির জিহাদ, দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার কবির কানন, কালের কণ্ঠের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মেহেদী হাসান।

অভিযুক্তরা হলেন- ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক আসিফ রায়হান মিনার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এসএম মাহমুদ সেতু, যুগ্ম সম্পাদক নাফিউল আলম ফুজি, প্রচার সম্পাদক নিলাদ্রি নিলয় দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিদ মাহমুদ অয়ন, সহ-সভাপতি সন্টু রহমান প্রমুখ। তারা সবাই হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা।

Manual6 Ad Code

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আটকে রাখা হয়েছে এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। হলে প্রবেশ করতে গেলে গেটটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান তারা। এ সময় ভেতরে ঢুকতে চাইলে হলের দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী জানান, ভেতরে ঢুকতে ছাত্রলীগের নিষেধ আছে। পরে হলের নিরাপত্তা প্রহরীকে পরিচয় দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, হলে প্রবেশ করার পাঁচ মিনিটের মধ্যে শেরেবাংলা হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং ভেতরে প্রবেশের কারণ জানতে চান। এ সময় শিক্ষার্থী অপহরণের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের মারধর করা হয়। মোবাইল ফোন, পত্রিকার পরিচয়পত্র ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের নেয়া হয় হলের ক্রীড়া কক্ষে।

প্রায় ৩০ মিনিট ধরে কক্ষটিতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

মারধরের বিষয়ে ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ধরে নিয়ে গেছে এমন তথ্য পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। কারণ ঘটনাটির বিষয়ে একেকজন একেক রকম তথ্য দিচ্ছিল। হলের ভেতর প্রবেশ করার পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মারধর করে।

ঘটনার বিষয়ে বুয়েট ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল বলেন, সেখানে শিবিরের এক নেতাকে ধরা হয়েছিল। সাংবাদিকরা সেখানে গেলে বিষয়টি নিয়ে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রাব্বানী বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি দুঃখজনক ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বুয়েটের শেরেবাংলা হল প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code