জৈন্তাপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ, দুই সন্তানের জনক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯

জৈন্তাপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ, দুই সন্তানের জনক গ্রেপ্তার

Manual2 Ad Code

সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুর নুর (৩৮) নামের দুই সন্তনের এক জনককে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আড়াই ঘন্টা অভিযান চালিয়ে জৈন্তাপুর ষ্টেশন বাজার এলাকার জৈন্তেশ্বরী মিউজিয়াম বাড়ীর সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর নুর উরফে খাটল (৩৮) উপজেলার ভিত্রিখেল বরবন্দন গ্রামের বতাই মিয়ার ছেলে। সে পেশায় একজন ট্রাক চালক ও তার ২টি সন্তানও রয়েছে।

Manual8 Ad Code

ভিকটিম সূতে জানা যায়, গত দু’মাস পূর্বে জৈন্তাপুর বাজারে মৌমিতা (ছদ্ম নাম) এসে রিক্সাযোগে পূর্ব বাজার এলাকায় যায়। এ সময় ভূল করে রিক্সায় সঙ্গে থাকা হাত ব্যাগসহ মোবাইল ও টাকা ফেলে যায়। পরে মৌমিতার হারিয়ে যাওয়া নিজের মোবাইল ফোনে কল করে কথা বলে। তখন রিক্সা চালক উপজেলার ফিরোজ মিয়ার রিক্সা গ্যারেজের পরিচয় দিয়ে বলে আমি কমলাবাড়ী গ্রামের মুখলেছ মিয়া, মোবাইল ব্যাগ ও টাকা আমার কাছে রয়েছে আপনি এসে নিয়ে যাইয়েন। মোবাইল, ব্যাগ ও টাকা ফেরত আনে। এরই সূত্র ধরে গেলে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের মৌমিতার (ছদ্ম নাম) সাথে সর্ম্পক গড়ে তুলে মুখলেছ।

অপরদিকে, উপজেলার ভিত্রিখেল বরবন্দন গ্রামের বতাই মিয়ার ছেলে ট্রাক চালক দুই সন্তানের জনক আব্দুর নুর উরফে খাটল (৩৮) এর সাথে পরিচয় হয় মুখলেছের। পরিচয়ের এক পর্যায়ে গত ১ মাস পূর্বে আব্দুর নুর ও মুখলেছ একে অপরকে জানায় মৌমিতাকে ফোন করে যে নিয়ে আসতে পারবে সে ১৫ হাজার টাকা বাজী পাবে। এই ফন্দি করে ফোন করে জৈন্তাপুরে নিয়ে আসে মৌমিতাকে। তারপর ট্রাক চালক ও মুখলেছ মটরসাইকেল করে ৭ম শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রীকে লালাখাল এলাকার নয়াগ্রামের এক নির্জন বাড়ীতে নিয়ে ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে মৌমিতাকে নুর জানায় সে ডিবি পুলিশের সদস্য এ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলতে; এ কথা বলে মৌমিতাকে বাড়ী পাঠিয়ে দেয় তারা। এঘটনার পর থেকে প্রতিদিন তার সাথে আব্দুন নুর ও মুখলেছ যোগাযোগ রাখে এবং মৌমিতাকে দেখা করতে বলে। মৌমিতা দেখা না করলে তারা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেছে বলে হুমকী দিয়ে আসছে। পরে বিষয়টি মৌমিতা তার মাকে বিষয়টি খুলে বলে।

Manual3 Ad Code

ঘটনাটি জানার পর শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় মেয়েকে নিয়ে জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের কাছে এলে আব্দুন নুর একাধিক বার মোবাইল ফোনে কল করে দেখা করতে বলে। বিষয়টি ভিকটিম তার বোনের জামাইকে অবহিত করে। বোনের জামাই স্থানীয় এক ট্রাক চালকের পরামর্শে পুলিশকে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষনিক পুলিশ অভিযানে নামে। দুপুর ২টায় ধর্ষক আব্দুন নুরকে কৌশলে স্টেশন বাজার থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

Manual5 Ad Code

পরে ভিকটিম বাদী হয়ে জৈন্তাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ ভিকটিম ও ধর্ষককে থানা হেফাজতে রাখে এবং মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধর্ষক আব্দুন নুরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অপর আসামীকে গ্রেপ্তারের তৎপরতা চলছে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code