সিলেটের সাদাপাথর লুন্ঠন হয়ে চলে গেছে সারাদেশে!

প্রকাশিত: ৯:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৫

সিলেটের সাদাপাথর লুন্ঠন হয়ে চলে গেছে সারাদেশে!

Manual2 Ad Code

মতামত প্রতিবেদন:
কাকে গ্রেফতার করবেন মান্যবর জেলা প্রশাসক?

Manual4 Ad Code


সুনির্মল সেন :
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া, বান্দরবন থেকে সুন্দরবন, কোথায় যায় নাই সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের  সাদাপাথর?

Manual7 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সারা বছর ধরে চলেছে এই পাথর লুন্ঠনের  মহোৎসব। আপনার প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে ভারত থেকে আসা এলসির পাথর বলে প্রতিদিন রাতে শত শত ট্রাক চলে গেছে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।  এর সবগুলোই ছিলো ভোলাগঞ্জের  সাদাপাথর।

 

মেহনতি শ্রমিকদের কাছ থেকে প্রতি নৌকা  ২ হাজার টাকা মূল্যে ক্রয় করে দুর্বৃত্তরা এগুলো ৮ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রয় করেছে আরেক শ্রেণীর লোকের কাছে। আর এর সবই হয়েছে প্রশাসনে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা -কর্মচারিদের যোগসাজশে। সেই এক বছরের লুন্ঠনকৃত পাথর আপনি ৩ দিনে উদ্ধার করার যে আলটিমেটাম দিয়েছেন সেটা এই উপজেলার মানুষের উপর মরার উপর খড়ার ঘা। আপনার দেয়া ৩ দিনের আল্টিমেটাম আগামীকাল ২৬ আগস্ট (মঙ্গলবার) শেষ হচ্ছে। তারপর কি করবেন মান্যবর জেলা প্রশাসক?

Manual7 Ad Code

 

আপনার সততা নিষ্ঠা আর আন্তরিকতায় কোন ত্রুটি নেই, এটা আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। কিন্তু তাই বলে লুন্ঠনকৃত পাথর উদ্ধারের নামে সাধারণ মানুষের মনে একটা অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছেন নাতো?

 

পাথরের জনপদ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের হাতে-গোনা ক’জন বেনিফিশিয়ারি ছাড়া বাকি সবগুলো পরিবার মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত আর খেটে খাওয়া শ্রেণীর মানুষ। রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে এই জনপদের অসংখ্য রেমিটেন্স যোদ্ধা। যাদের কষ্টার্জিত শ্রম আর ঘামের অর্থ দিয়ে এদেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল হয়।

 

বলতে হয়, শুধুমাত্র  পাথর দিয়ে মানুষের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টি শতভাগ সত্য নহে। তবে  যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা সনাতন পদ্ধতিতে বারকি শ্রমিকরা যে পাথর আহরণ করতো তার সাথে কিছু মেহনতি মানুষের সম্পৃক্ততা সব সময়ই ছিল। বড় বড় লুন্ঠনকারি ব্যবসায়িদের বোমা মেশিনের তাণ্ডবের কারণে খেটে খাওয়া এসব বারকি শ্রমিকের জীবন বিপন্ন গত প্রায় এক যুগ ধরে। সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ও আপনাকে বিবেচনায় নিতে হবে।

 

ঢালাওভাবে আপনার উপজেলা প্রশাসনের লোকজন কর্তৃক নিরীহ পরিবারগুলো যেনো হয়রানির শিকার না হয় সেই দিকে দৃষ্টি দিতে হবে আপনাকে। কারণ আপনি একজনই সারোয়ার আলম।

 

মান্যবর জেলা প্রশাসক মহোদয়, সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরনে আপনার মাধ্যমে এই অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের মুখে হাসি ফুটে ওঠুক। প্রকৃত দুর্বৃত্তরা আসুক আইনের আওতায়। একটা সুস্থ তদন্ত হোক। ইচ্ছে করলেই যে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় আপনার মাধ্যমে সেই  অনুভূতিটুকু জাগ্রত হোক সবার মধ্যে।

 

লেখক: কবি ও সাংবাদিক


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code