ইরানে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৬৪৮, দমনাভিযানের নিন্দায় ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত: ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

ইরানে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৬৪৮, দমনাভিযানের নিন্দায় ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য

Manual3 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনাভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআরএনজিও) এ তথ্য জানিয়েছে।

 

নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের নিচে ৯ জন আছে। গত ১৬ দিনের বিক্ষোভে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হওয়া ছাড়াও আরও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে সংস্থাটি।

Manual3 Ad Code

 

এর আগের দিন রোববার যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ ইরানের বিক্ষোভে ৫৪৪ জন নিহতের খবর জানিয়েছিল। তাছাড়া, এই সময়ে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তারও হয়েছে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।

 

নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘আইএইচআরএনজিও’ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় হতাহতের সংখ্যার তথ্য যাচাই করা দূরূহ হচ্ছে।

 

ইরান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে তেহরানের মর্গগুলোর ভিডিওতে লাশের স্তুপের দৃশ্য বলে দিচ্ছে দেশটিতে বিক্ষোভ কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।

 

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইরানে বিক্ষোভ দমনাভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেত্তে কুপার সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচিকে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দমনাভিযানের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও নৃশংস দমন-পীড়ন ভয়াবহ।

 

“ইরান সরকারকে অবিলম্বে এই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

 

Manual3 Ad Code

তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কথার জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি বলেছেন, যুক্তরাজ্য যেন ইরানের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে এবং ইসরায়েল-সমর্থিত ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, যারা সংবাদ সংস্থার ছদ্মবেশে সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছে।

 

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপারের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন আরাকচি।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে আরাকচি বলেন, “আমি পরিষ্কার করে বলেছি যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী লন্ডনে ইরানের কনস্যুলেট ও দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য বাধ্য।

 

“যদি যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক মিশন রক্ষায় তাদের দায়িত্ব পালন করতে না পারে, তবে ইরান আমাদের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে বাধ্য হবে।”

Manual6 Ad Code

 

গত ২৮ ডিসেম্বর, রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সঙ্কটের জেরে ছোট ছোট বিক্ষোভ থেকেই ইরানে বিক্ষোভের শুরু। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি, রিয়ালের দরপতন- সব মিলিয়ে ক্ষুব্ধ তরুণ জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামতে থাকে লাগাতার।

 

গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহ এর ছেলে রেজা পাহলভির সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিবাদের ডাকের পরই রাস্তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর আসতে থাকে।

 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর রক্তক্ষয়ী দমনাভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন সার্বজনীন দাবি। যারা এই অধিকার রক্ষায় লড়াই করছেন আমরা তাদের পাশে আছি।”

 

এর আগে গত শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানে বিক্ষোভকারীদেরকে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন ম্যাক্রোঁ।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


 

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code