এই পৃথিবী শুধু পুরুষদের সফল হওয়ার জন্য নয়: জাইমা রহমান

প্রকাশিত: ৩:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

এই পৃথিবী শুধু পুরুষদের সফল হওয়ার জন্য নয়: জাইমা রহমান

Manual3 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
বিএনপির সদ্য নিযুক্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান বলেছেন, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা, পরিবহন ক্ষেত্র—সবকিছুই মূলত পুরুষদের নিরাপদ রাখা ও সফল হওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে। নারীরা এর মধ্যে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। এই পৃথিবী শুধু পুরুষদের সফল হওয়ার জন্য নয়, এটি নারীদের জন্যও। তাই আমাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে।’

Manual6 Ad Code

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে এক নীতিনির্ধারণী সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ কথাগুলো বলেন। এটাই কোনো নীতি সংলাপে তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ।

এই সংলাপে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ। তরুণেরা অংশ নেন মুক্ত আলোচনায়। জাইমা রহমানের প্রতি তাঁদের প্রশ্ন ছিল জলবায়ু পরির্বতনজনিত ক্ষেত্রে নারীর ঝুঁকি, অনলাইনে হয়রানি, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি প্রসঙ্গে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক কাজী জেসিন।

প্রথমে লিখিত বক্তব্য ও পরে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জাইমা রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাকে আজ সুযোগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের নীতিগত বিষয়ে কথা বলার জন্য। আমি এমন কেউ নই, যার কাছে সব সমস্যার সব উত্তর আছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সবার মধ্যেই সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে।’

Manual8 Ad Code

জাইমা রহমান বলেন, ‘আজকের এই সংলাপ নারীরা কীভাবে জাতি গঠন করছে, সে বিষয়ে। কিন্তু ভবিষ্যৎ গঠনের কথা বলার আগে আমাদের সৎভাবে বাংলাদেশের নারীদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে কথা বলতে হবে, যে বাস্তবতা তাদের জীবনকে গড়ে দিচ্ছে। সমাজে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে আমার প্রথম ধারণা এসেছে আমার পরিবার থেকে, যেমনটা আমাদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই হয়। নীতি, আইন বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার অনেক আগেই আমাদের ঘরই ছিল আমাদের প্রথম শ্রেণিকক্ষ।’

এ সময় জাইমা রহমান নারীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দাদি খালেদা জিয়া যেভাবে মেয়েদের শিক্ষায় উপবৃত্তি চালুসহ বিভিন্ন ভূমিকা নিয়েছিলেন, চিকিৎসক মায়ের পেশাগত দায়িত্ব পালন, নানির সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড, নারীর ক্ষমতায়নে বাবার ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

জাইমা রহমান বলেন, ‘আমার দাদা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বুঝতেন যে নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন কখনোই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। দাদুর একটি গল্পের কথা মনে পড়ে। দাদু যখন লন্ডনে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, নাইজেরিয়ার একজন নার্স তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন এবং বলেছিলেন তাঁর দেশ মেয়েদের শিক্ষায় খালেদা জিয়ার মডেল অনুসরণ করে উপকৃত হয়েছে।’

নারীর সমতায় পুরুষের ভূমিকা পালনের ওপর জোর দিয়ে জাইমা রহমান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যেসব পুরুষ আছেন—আমাদের বাবা, ভাই, ছেলে, স্বামী, সহকর্মী ও বন্ধুরা—নারীর অধিকারের প্রতি আপনাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের সাফল্যকে উদ্‌যাপন করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমতা কেবল কথার ওপর টিকে থাকতে পারে না। যদি ব্যবস্থা ও প্রত্যাশা স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে নারীদের ত্যাগের ওপরই নির্ভর করে চলে, তবে বৈষম্য অবিরামভাবে চলতেই থাকবে। বিশেষ করে বাবাদের এই চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে একটি অনন্য ভূমিকা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি একমাত্র সন্তান এবং আমার মা–বাবা কখনোই আমাকে এমন অনুভূতি দেননি যে তাঁরা মেয়ের বদলে ছেলে চাইতেন। একবার কেউ এমন প্রশ্ন করায় আমার বাবা তাকে বকেও দিয়েছিলেন।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (বাবা) বুঝতেন যে ঘরে আমি সম্মান ও যত্নে বড় হলেও বাইরের পৃথিবী সব সময় একই রকম হবে না। তাই তিনি নিশ্চিত করেছিলেন, আমি যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই পৃথিবীর মুখোমুখি হতে পারি।’

জাইমা রহমান বলেন, ‘যখন নারীদের প্রান্তে ঠেলে না দিয়ে স্বাগত জানানো হয়, তখন তারা শুধু নিজেদের জীবনই বদলায় না, তারা বদলে দেয় তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং জাতির ভবিষ্যৎও। বাংলাদেশ যদি প্রকৃত অগ্রগতি চায়, তাহলে প্রতীকী সাফল্যের গল্প দিয়ে নয়, বরং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন দরকার। ক্ষমতায়ন শুধু শ্রেণিকক্ষ, শুধু অফিস বা শুধু নীতিনির্ধারণে থেমে থাকতে পারে না। এটি পৌঁছাতে হবে আমাদের ঘরে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং আমাদের মানসিকতায়। এর দায়িত্ব আমাদের সবার।’

প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে জাইমা রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে স্থানচ্যুতির সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন নারীরা। পাচারের শিকার হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। ৭৮ শতাংশ নারী অনলাইনে হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে ফেসবুকের মাধ্যমে। এটি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা। আইনি সুরক্ষা যথেষ্ট নয়, অভিযোগ করার ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই। নিরাপত্তা, সুরক্ষা, পরিবহন ক্ষেত্র—সবকিছুই মূলত পুরুষদের নিরাপদ রাখা ও সফল হওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে। এগুলো আসলে নারীদের জন্য তৈরি নয়। নারীদের এসবের মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। নারীদের জন্য প্রবেশগম্যতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। অনেক নারী খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যখন তাঁরা পদোন্নতির কাছাকাছি পৌঁছে যান, তখন পারিবারিক দায়িত্ব, শিশু লালন–পালন ইত্যাদির কারণে কর্মজীবন ছাড়তে বাধ্য হন। তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয় পুনর্নকশা করা যেতে পারে, যাতে সমাজে নারীরা আরও ভালোভাবে সফল হতে পারে। এই পৃথিবী শুধু পুরুষদের সফল হওয়ার জন্য নয়, এটি নারীদের জন্যও। তাই আমাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে।’

 

(সুরমামেইল/এফএ)

Manual3 Ad Code


 

Manual3 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code