ভারতে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব: এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা

প্রকাশিত: ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

ভারতে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব: এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা

Manual5 Ad Code

ব্যাংককের সূবর্ণভূমি বিমানবন্দর। ছবি: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণঘাতী নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

 

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো দেশগুলো তাদের বিমানবন্দরগুলোতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে ও নজরদারি কঠোর করেছে।

 

তাছাড়া, ভারতের সঙ্গে এই দেশগুলোর সীমান্তের বিভিন্ন স্থানেও নেওয়া হয়েছে একই ব্যবস্থা। বিবিসি জনায়, চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন।

 

আক্রান্তদের মধ্যে দুজন নার্সের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তারা বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১৯০ জনকে ইতিমধ্যে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

 

নিপা ভাইরাস হল সেই ভাইরাস, যাতে আক্রান্তদের মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়। এই ভাইরাসের কোনও টিকা বা সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই।

 

এই ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষে এবং মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে। সেকারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এবং মহামারী ছড়ানোর ক্ষমতাসম্পন্ন ভাইরাস হিসেবে গণ্য করে।

Manual1 Ad Code

 

থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার থেকে ব্যাংকক ও ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা সব যাত্রীর তাপমাত্রা পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যগত তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

 

থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি ও ডন মুয়াং বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং অন্যান্য লক্ষণের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাত্রীদের বিশেষ ‘হেলথ অ্যাডভাইজরি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনেও রাখা হতে পারে।

Manual4 Ad Code

 

নেপালও ভারত সংলগ্ন সীমান্ত এবং ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য ডেস্ক তৈরি করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে সামান্য সন্দেহ হলেই সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারত-নেপাল সীমান্তে ক্রমাগত মানুষ চলাচল নিয়ে নেপাল সরকার বিশেষভাবে চিন্তিত।

 

ওদিকে, তাইওয়ান স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিপা ভাইরাসকে সবচেয়ে বিপজ্জনক শ্রেণী ‘ক্যাটাগরি-৫ ডিজিজ’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মানে, যদি আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্টিং, আইসোলেশনের মতো জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

নিপা ভাইরাস কী?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, নিপা একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস, যা মূলত ফলখেকো বাদুড় বা শুকরের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ বা দূষিত খাবারের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।

 

লক্ষণ: প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, মাথাব্যথা, বমিভাব ও গলাব্যথা দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে এনসেফেলাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ), খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

Manual5 Ad Code

 

ঝুঁকি: এই ভাইরাসে মৃত্যুহার অনেক বেশি। বর্তমানে নিপা ভাইরাসের কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। অনেক সময় রোগীর মধ্যে প্রথমে কোনও লক্ষণ দেখা যায় না, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০০১ ও ২০০৭ সালেও নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। তাছাড়া, ভারতের কেরালা রাজ্যে গত কয়েক বছরে প্রায় নিয়মিত এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাদুড়ের কামড়ানো আধা-খাওয়া ফল বা কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে এই ভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

 

Manual8 Ad Code

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code