অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠান হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০২৬

অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠান হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র: বাণিজ্যমন্ত্রী

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশকে আগামী দিনের প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমানো, লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, বন্দর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

 

তিনি বলেন, ‘পুরোনো সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকলে সামনে এগোনো যাবে না। এখন সময় বাস্তবভিত্তিক সংস্কার ও প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন।’

 

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত Dhaka Industrial Packaging Expo 2026 উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে একটি ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের প্রায় ২৫ থেকে ২৬ ধরনের অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে হয়, যা ব্যবসা পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজীকরণে কাজ করছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান বিডা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই প্রাথমিকভাবে একটি “প্রভিশনাল ক্লিয়ারেন্স” দেওয়া হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় বর্তমানে জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশ পিছিয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিদেশি অপারেটরদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে একটি ডেনিশ কোম্পানি কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় কাজ শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানকে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।

 

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে। এই বাস্তবতায় কোনো “স্টপ-গ্যাপ” বা সাময়িক সমাধানের সুযোগ নেই। টেকসই সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতেই হবে।

Manual5 Ad Code

 

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বহু বড় শিল্পকারখানা বছরের পর বছর অলস বা লোকসানি অবস্থায় পড়ে আছে, যা সরকারের ওপর বিপুল ভর্তুকির চাপ সৃষ্টি করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪০টি এবং বস্ত্র ও পাট খাতের অধীনে আরও প্রায় ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুল ভূমি ও সম্পদকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে সরকার ধাপে ধাপে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করছে।

Manual2 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এসব অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করা। কোথাও আধুনিকায়ন হবে, কোথাও নতুন শিল্প গড়ে উঠবে, আবার কোথাও রপ্তানিমুখী উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।”

 

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি চিনিকল গড়ে এক হাজার বিঘা বা তার বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এসব স্থানে আধুনিক শিল্প পার্ক বা বহুমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে বিপুল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সরকারের রাজস্ব আয় সৃষ্টি সম্ভব হবে।

 

প্যাকেজিং শিল্পের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্যাকেজিং শিল্পের বাজার বিশাল এবং বাংলাদেশকে এই খাতে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ছোট করে চিন্তা করলে বড় জায়গায় পৌঁছানো যায় না। সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে, তবে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটাতে হবে উদ্যোক্তাদেরই।”

 

তিনি আরও বলেন, সরকার চায় দেশীয় শিল্প বিকশিত হোক, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক, বাংলাদেশের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করুক এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করুক।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। অনুষ্ঠানে প্যাকেজিং শিল্প সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

Manual8 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এনআই)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code