সিলেট ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
দেড় মাসের ছুটি নিয়ে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুনামগঞ্জের আমিন উদ্দিন (৪৭)। জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সৌদি আরবের রিয়াদ-তায়েফ সড়কের আল-কোমরা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।
নিহত আমিন উদ্দিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বর্মাউত্তর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি প্রায় ২৭ বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। তায়েফ এলাকায় তার একটি কফির দোকান ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে আমিন উদ্দিন তার ছোট ভাই মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে বিমানের টিকিটের ছবি পাঠান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে নিয়ে আসতে বলেন। দীর্ঘদিন পর আমিন দেশে ফিরছেন- এ খবরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই আসে তার মৃত্যুর খবর। সৌদি আরবে থাকা আরেক ভাই কলিম উদ্দিন ফোন করে পরিবারকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আমিন উদ্দিন মারা গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে আমিন উদ্দিনসহ চারজন একটি গাড়িতে রওনা হন। গাড়ির মূল চালকের ভাতিজাও দেশে আসার জন্য তাদের সঙ্গে ছিলেন। পথে আল-কোমরা এলাকায় গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে আমিন উদ্দিন, গাড়ির মূল চালকসহ চারজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর চালকের ভাতিজা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিহতের ভাই সৌদি প্রবাসী মাওলানা আব্দুল আওয়াল ও মাওলানা কলিম উদ্দিন তায়েফের এরজোয়ান থানায় পলাতক চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
আমিন উদ্দিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আমার ভাই আমাকে ফোন করে আজ সকালে সিলেট বিমানবন্দর থেকে তাকে নিয়ে আসতে বলেছিল। এ খবরে আমাদের পরিবারের সবাই আনন্দিত ছিলাম। তাকে দেশে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই সৌদি প্রবাসী আরেক ভাই কলিম উদ্দিন জানান, আমাদের ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।’
জসিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমার বড় ভাইয়ের তিনটি সন্তান। তাদের আমরা এখন কী জবাব দেব? আমরা আমাদের ভাইকে হারিয়েছি। এখন আমাদের একটাই দাবি, তার মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা চাই।’
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আমিন উদ্দিন সর্বশেষ গত বছরের ৩ আগস্ট দেশে এসেছিলেন। এবার দেড় মাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসছিলেন। আগামী ২৩ নভেম্বর তার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী সিলেট থেকে জেদ্দার ফিরতি বিমান টিকিটও সংগ্রহ করেছিলেন। তবে দেশে ফেরার বদলে তার মরদেহ বর্তমানে সৌদি আরবের তায়েফ আল-মরুয়া এলাকার একটি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আমিন উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে আমাদের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব। বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) স্যারকে জানিয়েছি। তার পরিবারের লোকজন আসবেন বলে জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
(সুরমামেইল/এসডি)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি