অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, দিলেন যে ব্যাখ্যা

প্রকাশিত: ১:২২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৬

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, দিলেন যে ব্যাখ্যা

Manual4 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামার যুক্তি হিসেবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘সামাজিক প্রতিরোধের’ কথা বলছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

Manual4 Ad Code

 

তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অন্তত ছয়জন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যে কারণে আজকে আমি সতর্কতা অবলম্বন করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছি।’

 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেওয়া এ ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রতিমন্ত্রী গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়লে কী হতো সেই প্রশ্নও উঠেছে।

 

তবে প্রতিমন্ত্রী বলছেন, ‘আমাদের সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার, আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। যে কারণে আমরা শুধু পুলিশের উপর নির্ভর করে চলছি না।’

 

এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলছেন, ‘এখানে আইনের কোনো বাত্যয় নেই। তবে এটা না করলেই পারতেন। একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘ওনার প্রটেকশনের জন্যতো ঢাকা মেট্রোপলিটনের অফিসাররা আছেন। তাদের নিয়ে সেটা করলেই ভালো হতো।’

 

এদিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

Manual5 Ad Code

 

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই একদল লোককে তাড়া শুরু করলেন ইশরাক। পিস্তলের স্লাইড টেনে সেটিকে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে “অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া” বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাকে।

 

Manual8 Ad Code

ভিডিওর ক্যাপশন লেখা, “ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ।”

 

ঘটনাটি গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকার বলে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে। ভিডিওতে ইশরাক ছাড়াও আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কিছু লোককে তাড়া করতে দেখা যায়।

 

এ ঘটনার বিষয়ে গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, উনারা ছয়জনকে ধরে মাদকসেবী বলে জানালে আমরা গিয়ে নিয়ে আসি। তাদের কাছে কিছু পাউডার পাওয়া গেছে, সেগুলো কী, তা পরীক্ষায় জানা যাবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাতে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘শনিবারের ঘটনার বিষয়ে বলতে হলে লম্বা প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে হবে। আপনারা জানেন, ঢাকা ৬ নম্বর আসনের গেন্ডারিয়া এলাকার ঘুণ্টিঘর, মুন্সিরটেক এলাকার অবস্থা সস্পর্কে… বিগত ছয় মাসে মাদকের বিস্তার যেভাবে এলাকাটিকে গ্রাস করেছে। আপনারা ইতোমধ্যে নিশ্চয়ই ভিডিওতে দেখেছেন দিনেদুপুরে সেখানে মাদক কেনাবেচা, সেবন চলছে। বাসাবাড়ি থেকে রশিতে করে মাদক বিক্রি হচ্ছে। বাড়ির ভেতরে অবৈধ মদ, ইয়াবাসহ আরো বিভিন্ন রকমের মাদক পাওয়া গেছে।

 

তিনি বলেন, আমি এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে গেন্ডারিয়া থানা, ওয়ারি অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে মিটিং করেছি, তারা বিভিন্ন বাস্তবতা ও কারণে অসহায়; তাদের ওখানে একটা ফাঁড়ি দরকার, আমার পক্ষ থেকেও সহযোগিতা ছিলো, কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় ফাঁড়ি হয়নি এখনো। যে কারণে এই এলাকায়, স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও মাদকের বিস্তার ঘটেছে, ছড়িয়ে পড়েছে কলেজ, স্কুলগুলোয়। যে কারণে এলাকার মানুষ আসে আমার কাছে। এখন বলুন, আমরা কতক্ষণ অসহায়ত্ব দেখাবো?

 

তিনি জানান, আমাদের সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার, আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। যে কারণে আমরা শুধু পুলিশের উপর নির্ভর করেই চলছি না। আমি নির্বাচিত হওয়ার আগে বারবার জনগণের সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ওয়াদা করেছি মাদক বন্ধ করবো, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

 

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘এই পরিপ্রেক্ষিতেই আমি আজকে গিয়েছিলাম। যে আগ্নেয়াস্ত্রটি আমার হাতে দেখা গেছে, সেটি বৈধ অস্ত্র, আমার কোমরেই থাকে। বিগত সময়ে সেখানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অন্তত ছয়জন সদস্য সেখানে অভিযানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। যে কারণে আজকে আমি সতর্কতা অবলম্বন করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছি।’

 

তিনি বলেন, ‘এলাকার জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আমি এটা করেছি সামাজিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে। স্থানীয় পুলিশও নানা সীমাবদ্ধতার জন্য তাৎপর্যমন্ডিত ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আমি নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অবহিত করেছি এলাকার বিষয়ে, উনিও কী করবেন, সারাদেশে মাদকের বিস্তার। তাই আমরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলবো।’

 

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি সেখানে আজকে যাওয়ার ১০ মিনিট পরই পুলিশকে অবহিত করেছি, ‘আপনারা আসেন’। তারপর তারা ব্যবস্থা নিয়েছে।’

 

ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ওয়ারি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা বলেন, ‘আমরা যতটুকু জেনেছি, ছয়-সাতজনকে ধরে তিনি থানায় দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় (অভিযানের বিষয়ে) পুলিশকে আগে থেকে জানাননি, আমরা পরে বিষয়টি জেনেছি।’

 

পিস্তল হাতে একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর এরকম অভিযানের ঘটনায় নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইশরাকের ভিডিওতে হাজার হাজার মানুষ মন্তব্য করেছেন। মন্তব্যের ঘরে বেশির ভাগ উত্তরে বলা হয়েছে, পিস্তলের লাইসেন্স থাকলে এভাবে ব্যবহার করতে পারে।

 

পরে সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে আরেকটি পোস্টে আসে। সেখানে বলা হয়, ‘ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।’

 

তিনি বলেছেন, ‘মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।’

Manual1 Ad Code

 

পোস্টে বলা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code