১৬ কোটি মানুষকে মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে মানবপুঁজি হিসেবে গড়ে তোলার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ১২:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৫

১৬ কোটি মানুষকে মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে মানবপুঁজি হিসেবে গড়ে তোলার আহবান  প্রধানমন্ত্রীর

Manual4 Ad Code

sheikh-hasina

সুরমা মেইলঃ রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলে বলেন, আমি বুঝি না ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হতে শিশুকে কেন পরীক্ষা দিতে হবে?

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, শিশুকে যদি লিখতে পড়তে শিখেই স্কুলে ভর্তি হতে হয় তাহলে স্কুল কি পড়াবে?

দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত ও ১৬ কোটি মানুষকে মানবসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে মানবপুঁজি হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্টদের তিনি বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন-২০১৪ এর আলোকে যথাযথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করুন, ব্যাপক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করুন। আপনাদের সকল কাজে সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতার দ্বার অবারিত থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ে তোলা। জাতির পিতা বিশ্বাস করতেন, একটি শিক্ষিত প্রজন্ম ছাড়া সোনার বাংলা গড়া সম্ভব নয়। তাই তিনি স্বাধীনতার পরপরই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। স্বাধীনতার মাত্র ৩ বছরের মাথায় ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা পাকিস্তানের শেষ বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়।

Manual8 Ad Code

জাতির পিতা ১৯৭২ সালে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী তিনি ৩৬ হাজার ১শ’ ৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭শ’ ২৪ জন শিক্ষকের পদ সরকারিকরণ করেন।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর শিক্ষা কমিশনের অন্যান্য সুপারিশমালা আর বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষাঙ্গনে নেমে আসে চরম নৈরাজ্য।

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) সকলের জন্য অবৈতনিক এবং বাধ্যতামূলক করে যান। বঙ্গবন্ধু সরকারের ৩৬ হাজার ১শ’ ৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করে যাওয়ার ৪০ বছর পর আমাদের সরকারই ২০১৩ সালে দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছে। একই সঙ্গে এসব বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩ হাজার ৮৪৫ জন শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ করেছি।

শিক্ষার উন্নয়নে তার সরকারের সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘সবার জন্য শিক্ষা’ এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি)  বাস্তবায়নে আমরা অত্যন্ত সফল। দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করে মানবপুঁজিতে উন্নীত করতে পারলে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং সবার জন্য শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার ঘোষণা থাকলেও ২০১১ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শতভাগ শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি আমরা নিশ্চিত করেছি। প্রতি বছরের মতো এবারও বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩টি নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করেছি।

পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ঝরেপড়া রোধে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।  মিড-ডে মিল চালু করা হয়েছে।

আশির দশকে ঝরেপড়ার হার ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে আমরা ২০.৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, উপবৃত্তির সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে আমরা ৭৮ লাখ ১৭ হাজার ৯শ’ ৭৭ জনে উন্নীত করেছি। ৯৬টি দারিদ্র্যপীড়িত উপজেলার ২৯ লাখ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে।

পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি স্কুলে মিড-ডে মিল চালুর ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, অনুন্নত জনপদ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যূষিত ৫২টি জেলার ১শ’ ৪৮টি উপজেলায় আমরা ১ হাজার ১শ’ ৪০ কোটি ২৬ লখ টাকা ব্যয়ে ২১ হাজার ৬শ’ ২৩টি ‘আনন্দ স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেছি। ফলে, হতদরিদ্র ও ঝরেপড়ার শঙ্কাগ্রস্ত শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নিজস্ব বর্ণমালায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ভাষা জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য  ১ হাজার কোটি টাকার শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি।

নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন, দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ৪শ’ ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ সাক্ষরতা কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিবন্ধীদের সক্ষমতা বিকাশে প্রতিবন্ধী স্কুল করেছি। পরীক্ষার ক্ষেত্রে তাদের আধা ঘন্টা সময় বাড়িয়ে দিয়েছি।

Manual5 Ad Code

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ দেশ, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসাবে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code