সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের গণকবর অবজ্ঞা-অবহেলায়

প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০১৫

সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের গণকবর অবজ্ঞা-অবহেলায়

Manual2 Ad Code

s

সুরমা মেইলঃ বিশেষ দিনগুলো ছাড়া প্রায় সব সময়েই জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগত দর্শনার্থীদের হেয়ালিপনা ও খামখেয়ালিতে প্রতিনিয়তই অসম্মানিত হচ্ছেন জাতির এই বীর সন্তানেরা। ছুটির দিনগুলোতে স্মৃতিসৌধের মনোরম পরিবেশের কারণে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। আর এই সময় স্মৃতিফলকের সামনে থাকা গণকবরগুলোকে না বুঝেই পদদলতি করতে দেখা যায় তাদের। অনেককেই আবার বান্ধবী ও প্রিয়জনদের নিয়ে কবরের উপর বসে খোশগল্পে মশগোল থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার কবরের উপর উঠে ফটোসেশনে ব্যস্ত থাকেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি অর্জন করেছে মহান বিজয় আর সার্বভৌমত্ব। জাতির এই বীর সন্তানদের স্মরণে-সম্মানে রাজধানীর পাশের সাভারের নবীনগরে তৈরি করা হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এখানেই সমাধিত করা হয় অজ্ঞাতনামা দশজন বীর শহীদের দেহাবশেষ। যাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে প্রতি বছরই ২৬ মার্চ এবং ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সমগ্র জাতির বিনম্র শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে ওঠে লাখো শহীদের বিদেহী আত্মা।

Manual2 Ad Code

ক্রবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে এসব দৃশ্য দেখা যায়। অনাকাঙ্ক্ষিত ও জাতির বীর সন্তানদের অসম্মানের দৃশ্য থেকে অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। যারা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন তাদেরকে নির্বিচারে পদদলিত করছি আমরা!

Manual8 Ad Code

গণকবরের এক পাশে ছোট একটি সাইনবোর্ডে লেখা আছে, “সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এখানে শহীদের গণকবর রয়েছে, এর ওপরে উঠা এবং বসা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।”এরপরও সাইনবোর্ডের দিকে দৃষ্টিপাত না করেই দিনের পর দিন আর বছরজুড়ে চলছে শহীদদের অসম্মানের এধরনের লজ্জাকর কাণ্ড।

শহীদদের গণকবরের ওপরে বসে থাকা আলাপচারিতায় মগ্ন এক দর্শনার্থী জানান, সাইনবোর্ড লক্ষ্য না করেই এখানের উঁচু জায়গাটির সবুজ ঘাস দেখে তারা বসেছেন।

Manual4 Ad Code

শুধু কি সাইনবোর্ডের নির্দেশনাই যথেষ্ট? নাকি সৌধের নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছেন তাদেরও কিছু করার আছে-এমন প্রশ্নের জবাবে সৌধের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান  বলেন, “আমি এখানে আসার পরে দর্শনার্থীদের সচেতন করার জন্য গণকবরের ওপর সাইনবোর্ড দিয়েছি। এরপরও মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে আর কী করার আছে।”

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্মৃতিসৌধের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার জন্য পরামর্শ দেন।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code