অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের

প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের

Manual1 Ad Code

খেলা ডেস্ক:
দলের অনেক তারকা ক্রিকেটারকে ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া দল। মাঠে নেমে স্টার্ক-কামিন্সদের অভাব হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে অজিরা। মিরপুরে টাইগারদের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচেই বিধ্বস্ত হয়েছে ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দলটি। টানা দুই ম্যাচ জিততে অজিদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ ঘরে তুলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অজিদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা।

Manual3 Ad Code

 

ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তানসহ সেরা দশে থাকা প্রায় প্রতিটি দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ দল। তবে অপেক্ষা ছিল কেবল অস্ট্রেলিয়ার জন্য। ২০০৫ সালে প্রথমবার ত্রিদেশীয় সিরিজে অজিদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয় পেয়েছিল টাইগাররা। এরপর ২০১৭ সালে টেস্টে জয় ও ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

Manual2 Ad Code

 

কিন্তু মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানেডে সিরিজ জয়ের অপেক্ষায় ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে সেই অপেক্ষা শেষ হলো, ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ ঘরের তুলেছে মিরাজ বাহিনী।

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ ওভারে ১৮৭ রান তুলেছিল অজিরা। এরপর মিরপুরে হানা দেয় বেরসিক বৃষ্টি, ফলে কাটা গেছে ম্যাচে ৯ ওভার। বৃষ্টি আইনে ৪১ ওভারে ১৯১ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে বল ও উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

Manual5 Ad Code

 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থে পড়া বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলারের হাতে ফিরতি ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম। এরপর শান্তকে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ৮৬ রানের জুটি। তবে রির্ভাস সুইপ খেলতে গিয়ে ৪২ রানে কাটা পড়েন সৌম্য।

 

৮৬ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের বিপদ বাড়ান শান্ত। ৯৮ রানের মাথায় ৪২ করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন টাইগারদের সহ-অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে অবশ্য নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে দুই হাজার রান করেন তিনি, যা বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম।

 

মিরপুরে লিটনের ওয়ানডে পরিসংখ্যান ভালো নয়। প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ারে করতে পারেননি কোনো ফিফটি। আজকের ম্যাচেও হলো একই দশা। দারুণ খেলতে থাকা লিটন আটকে গেলেন মিরপুরের ধাঁধায়। ক্যামরুন গ্রিনের আচমকা বাউন্সার লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক ইংলিসের হাতে জমা হয়। তাতে ২১ রান করে বিদায় নেন এই ব্যাটার।

 

Manual5 Ad Code

ছয়ে নামা মোসাদ্দেকের শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। ডাউন দ্য ট্র্যাকেই এসে খেলেছেন প্রথম বল। অ্যাডাম জাম্পার ওপর বেশি চড়াও হয়েছিলেন এই ব্যাটার, হাঁকিয়েছেন তিন বাউন্ডারি। কিন্তু জাম্পার বলেই উচ্চবিলাসী শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন মোসাদ্দেক।

 

১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা ব্যাকফুটে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে মিরাজ ও হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

 

এর আগে টসে জিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে কোনো রান না করেই লজ্জার রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। ওয়ানডে ইতিহাসে ১০২৪ ম্যাচ খেলে এবারই প্রথম শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর নজির গড়ে জশ ইংলিসের দল।

 

ইনিংসের শুরুতে চাপ তৈরি করেন তাসকিন আহমেদ। টানা দুই ম্যাচে ম্যাথু শর্টকে আউট করেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ওভারে কুপার কনোলিকে লিটনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। একই ওভারে ম্যাট রেনশও আউট হন। পরে অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।

 

১৮তম ওভারে জশ ইংলিসকে আউট করেন তানভীর ইসলাম। ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। সেই অবস্থায় সপ্তম উইকেটে ১০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে সামলান জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। তবে ৪১তম ওভারে আবারও ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া।

 

এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকে। পরে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। এতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code