সিলেটে সবুজ সাথী সম্মাননা পেলো সিসিকের ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ’

প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২৬

সিলেটে সবুজ সাথী সম্মাননা পেলো সিসিকের ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ’

Manual2 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
সিলেট নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতে সম্ভাবনাময় পরিবর্তনের জন্য সিলেট সিটি করপোরশনের (সিসিক) ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে ‘সবুজ সাথী সম্মাননা’ প্রধান করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সিলেট শাখা।

 

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (১৩ জুন) বেলা সাড়ে ১২ টায় সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলাস্থ রয়েল মার্ক হোটেলে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সিলেট শাখার আহবায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। পরিবেশকর্মী নাহিদা খান সুর্মির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম। এছাড়াও নাগরিক প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি ডা. নাসিম আহমেদ, প্রবাসী বিনিয়োগকারী উইন্ডসর হোটেল এন্ড রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম, লেখক ও গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাজিয়া চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজ ড্যাব এর সভাপতি ডা. শামিমুর রহমান, বারাকা পাওয়ার লিমিটেড ও কুইন্স হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, শ্রীহট্ট আর্কিটেক্টের সত্ত্বাধিকারী স্থপতি মিনহাজুল আবেদিন চৌধুরী।

Manual4 Ad Code

 

প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ১০ লাখ লোকের বসবাস এই শহরে। ইতিহাস ঐতিহ্য ও পর্যটনের শহর হিসেবে সিলেটের পরিচিতি দেশ বিদেশে সর্বত্র আছে। তাই এই সুনাম ধরে রাখতে হলে সিলেট শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর এই পরিচ্ছন্নতার কাজটা করে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সত্যি কথা বলতে সিসিকের বর্জ্য বিভাগে যারা কাজ করেন তাদের বেতনই আমরা ঠিকভাবে দিতে পারি না। কারণ সিসিকের সেই পরিমাণ আয় নেই। নগরীর যে অংশ বর্ধিত হয়েছে সেই অংশে এখনো হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় আনা যায়নি নানা কারণে। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুফল তারাও পাচ্ছেন। এত কিছুর মাঝেও আমাদের বর্জ্য বিভাগের দায়িত্বশীল অফিসার ও কর্মীরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাকে সিসিকের দায়িত্ব দেওয়ার পর বলেছেন জনগণের জন্য কাজ করতে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করবেন। তার দিকনির্দেশনা মতই আমি কাজ করে যাচ্ছি।

Manual6 Ad Code

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, বিগত চার বছর ধরে আমরা এই সম্মাননা দিয়ে আসছি। আমার সবসময়ই সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমালোচনাই করে থাকি। তবে এবার যখন সম্মাননার জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের নাম এলো তখন মনে হয়েছে খারাপ বা ভুল কাজের সমালোচনা করা যেমন জরুরী তেমনি ভাল কাজের জন্য সম্মাননা জানানো ও পুরুস্কার দেওয়াও জরুরী। এতে যারা কাজ করেন তাদের কর্মস্পৃহা বাড়ে। তবে আমি সিসিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাবো আপনার যদি সিলেট নগরীর পরিবেশ ভাল রাখতে চান তাহলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা জরুরী। এবং সিসিকের এসব পরিকল্পনার কাজে আমাদের সম্পৃক্ত করুন। তাহলে সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা যাবে।

 

তিনি বলেন, এবারে বাজেটেও পরিবেশ ও নদীর কথা চিন্তা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই প্রথমবারের মত বাজেটে দেশের পরিবেশের কথা চিন্তা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কতটুকু রাখা হয়েছে সেই তর্কে না গিয়ে সরকার প্রধানকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ অন্তত তিনিতো দেশের পরিবেশ প্রতিবেশের কথা চিন্তায় রেখেছেন।

 

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সরকার দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নে কাজ করছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এই ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে দেশের রোল মডেল হবে।

 

পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে পরিবেশ বিরোধী নানা অপকর্ম দমন কঠিন। সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আজকের এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীকে উজ্জীবিত করবে।

 

Manual5 Ad Code

স্বাগত বক্তব্য আব্দুল করিম কিম বলেন, আমরা সব সময় সরকারী প্রতিষ্ঠানের বাধ্য হয়ে সমালোচনা করি। প্রশংসা করার সুযোগ পাই না। সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সেই সুযোগ করে দিয়েছে।

 

সভাপতির বক্তব্যে মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বলেন, এই সম্মাননা সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি সেবা বিভাগকে দেয়া হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের অনেক বিভাগ রয়েছে যেখানে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। আমরা চাই সিলেট সিটি করপোরেশনের সব বিভাগ তাদেরর কাজের মাধ্যমে সম্মানিত হোক।

 

Manual2 Ad Code

সম্মাননা গ্রহণের পর সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, এই অর্জন শুধু আমাদের নয়, সমগ্র সিলেট নগরবাসীর। সবুজ সাথী সম্মাননা সিলেট মহানগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় পরিবর্তন আনবে। এই সম্মাননা গ্রহণ করতে পেরে আমরা গর্বিত ও অনুপ্রাণিত। এই স্বীকৃতি কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নয়; এটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য সিলেট নগর গড়ে তোলার অভিযাত্রায় সম্পৃক্ত সকল নগরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি।

 

অনুষ্ঠানে অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড। সঞ্জয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের প্রাক্তন পরিচালক এনামুল কুদ্দুস চৌধুরী, সিলেট ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি মুহিতুল বারী, বাংলাদেশ রেস্তোরা মালিক সমিতি সিলেট শাখার আহ্বায়ক অরুপ শ্যাম বাপ্পী, সিলেট ইতিহাস ও ঐতিহ্য গবেষণা পরিষদ-এর বর্তমান সভাপতি হলেন গবেষক হাবিব আহমদ দত্তচৌধুরী, লেখক গবেষক অপূর্ব শর্মা ও আসিফ আজহার, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জয়স্বীপ দাস সুজক, সিলেট উইমেন চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন শম্পা, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সিলেট শাখার সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র,জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক হেড কোচ মাহমুদ ইমন, চৈতন্য প্রকাশনীর কর্ণধার রাজীব চৌধুরী, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার রোমেনা রোজী, অ্যাডভোকেট জাকিয়া জালাল, নাহিদ পারভেজ বাবু প্রমুখ।

 

(সুরমামেইল/এসবি)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code