যুবককে পিটিয়ে পানিতে ফেলে হত্যা: টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোটের মালিক স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৯

প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

যুবককে পিটিয়ে পানিতে ফেলে হত্যা: টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোটের মালিক স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৯

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবক আমান উল্লাহ ওরফে আমিনকে পিঠিয়ে হত্যাকান্ডের মামলায় হাউসবোটের মালিক ,তার স্ত্রী সহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

বুধবার (১০ জুন) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানায় প্রবাসী ছেলে হত্যাকান্ডে জড়িত ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে মামলাটি দায়ের করেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের রহমত আলীর ছেলে (নিহতের পিতা) কামাল মিয়া ওরফে কামাল মাঝি।

 

ওই মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীক পর্যটক পরিবাহী হাউবোটের মালিক কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পাঁচরা গ্রামের ফরিদ উল্লাহর ছেলে ফায়াদ বায়েজিদ, তার স্ত্রী শারমিন খাঁন হীরা, বোটের ষ্টাফ মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার বামৈল পশ্চিমপাড়ার সামছুল আলমের ছেলে হোসাইন শাহ, একই জেলার একই উপজেলার সেলামতি গ্রামের হাসান আলীর ছেলে উসামা বিন হাসান, বান্দরবন জেলার আলীকদম উপজেলার রতীচন্দ্র পাড়ার হামাজান ত্রিপুরার ছেলে জয় ত্রিপুরা, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের আলমাস নুরের ছেলে হাবিব মিয়া, বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার ডানডোবা গ্রামের আব্দুর রহমান ভুঁইয়ার ছেলে রাজীব ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ জেলা শহরের তেঘরিয়ার আরজত আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, খুলনার রুপসা উপজেলার সিংগেরচর গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে মনিরুল খান।

 

একই মামলায় গ্রেফতারকৃতরা ছাড়াও বোটের ষ্টাফ সুনামগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম তেঘরিয়ার তাজিরুল ইসলামের ছেলে আজাদুল হক, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ধরুন্দ গ্রামের জামাল মিয়া ছেলে দুলাল মিয়াকে পলাতক আসামি দেখিয়ে ৩ থেকে চারজনকে অজ্ঞাত নামা আসামি করা হয়েছে।

 

বুধবার বিকেলে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন (পিপিএম) এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার গ্রেফতারকৃত ৯ জনকে আদালতে সোপর্দ করার পর আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Manual3 Ad Code

 

মামলার বাদী নিহতের পিতা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের খলাপাড়া গ্রামের কামাল মিয়া ওরফে কামাল মাঝি জানান, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাট, বালিজুরী, আনোয়াপুর সহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের চাহিদাপূরণে ভৈরব বাজার হতে খাদ্যসামগ্রী, ভোজ্য তৈল, নির্মাণ সামগ্রী বোঝাই কাঠ বডি (ইঞ্জিন চালিত) বড় ট্রলারে করে নিয়ে আসারপর সোমবার আনলোড করে ফের ভৈরবে নিয়ে যাবার জন্য বাদাম, ধানের কুড়া, খালি ড্রাম বোঝাই করে সোমবার রাতে তাহিরপুরের আনোয়ারপুরের পাতারি গ্রামের রক্তি নদীর ঘাটে ঝড়বৃষ্টির কারনে নোঙ্গর করে রাখা হয় ট্রলারটি।

 

ওই ঝড়বৃষ্টির সময় ট্রলারের ভেতর মাঝি, সুকানী মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলে আমান উল্লাহ ওরফে আমিন সহ ট্রলারে থাকা পাঁচ রাত ২টার দিকে খাবার খেতে বসেন। এ সময় পাশে থাকা টাঙ্গুয়ার হাওর কেন্দ্রীক পর্যটক পরিবাহী হাউসবোট ‘নটিলাস’কে পাহাড়ি স্রোতের তোড়ে ধাক্কা দেয় ট্রলারটি। এরপর ট্রলার ও হাউসবোটের লোকজনের মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়াঝাটি হয়।

Manual5 Ad Code

 

এক পর্যায়ে হাউসবোটের মালিক সহ বোটে থাকা ষ্টাফরা সংঘবদ্ধ হয়ে ট্রলারের ভেতর থাকা পাঁচ জনকে বেধরকভাবে লাঠিপেটা শুরু করেন। পিঠুনির মুখে ট্রলারের ভেতর থাকা প্রবাসী ছেলে আমান উল্লাহ আমিন সহ চার জনকে রক্তি নদীর পাহাড়ি ঢলের পানিতে ফেলে দেয়া হয়।

 

ট্রলার মালিক কামাল মিয়া ওরফে কামাল মাঝিকে ট্রলার থেকে তুলে নেয়া হয় হাউসবোটে। এদিকে অন্যরা সাঁতড়ে তীরে উঠলেও কামাল মাঝির ছেলে আমান উল্লাহ ওরফে আমিন রক্তির নদীর পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন।

 

অপরদিকে ট্রলার মালিক কামাল মাঝিকে হাউসবোটে নিয়ে হাত পা বেঁধে বেধরকভাবে লাঠিপেটা করা হয় আটকে রাখা হয় প্রায় ঘন্টা তিনেক। এক পর্যায়ে হাউসবোটে ডাকাতি করতে এসেছিলো ট্রলারের পাঁচজন এমন স্বীকারোক্তিমুলক ভিডিও বক্তব্য ধারণ করে ওই ট্রলার মালিক কামালকে মঙ্গলবার ভোররাতে ছেড়ে দেয় হাউসবোটের মালিক, তার স্ত্রী ও ষ্টাফরা।

 

সোমবার রাতে লাঠিপেটার শিকার ট্রলারের একজনকে মঙ্গলবার সকালে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে নিজের প্রবাসী ছেলে আমান উল্লাহ আমিনের সন্ধান না পেয়ে বিষযটি তাহিরপুর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।

 

এরপর সুনামগঞ্জ থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল মঙ্গলবার সন্ধা ৭টার দিকে রক্তি নদীর গভীর পানির তলদেশ থেকে আমান উল্লাহ ওরফে আমিনের লাশ উদ্ধার করেন।

Manual7 Ad Code

 

বুধবার সকালে নিহতের লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরের দিকে নিহতের লাশ দাফনের জন্য ভৈরবের খলাপাড়া নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

তাহিরপুর থানার মামলার তদন্তকারি অফিসার এসআই দীপক চন্দ্র দাস জানান, অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণ, পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান চলমান রয়েছে। এছাড়া ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার মুল্যের পর্যটক পরিবাহী হাউসবোট ‘নটিলাস’ জব্দ করা হয়েছে।

 

(সুরমামেইল/এইচএসএ)

Manual7 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code