ধাওয়া খেয়ে থানাতেই আশ্রয় নিলেন ‘থানা পুড়ানো’ সেই মাহদী

প্রকাশিত: ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

ধাওয়া খেয়ে থানাতেই আশ্রয় নিলেন ‘থানা পুড়ানো’ সেই মাহদী

Manual7 Ad Code

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
নিরাপত্তার দাবিতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় আশ্রয় নিয়েছেন ‘এসআই সন্তোষকে মেরেছি, বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি’ বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমন্বয়ক মাহদী হাসান।

 

বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত মত প্রকাশের জেরে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাঁকে ধাওয়া করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এবং প্রাণভয়ে তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছেন।

 

বুধবার দুপুরে ব্যক্তিগত ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় মাহদী হাসানের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। নিজের ফেসবুক লাইভে তাঁকে বেশ আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভিন্নমত বা ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই কি না। প্রাণ রক্ষার্থে তিনি দৌড়ে ও রিকশায় চড়ে হবিগঞ্জ সদর থানায় প্রবেশ করেন এবং ডিউটি অফিসারের রুমে আশ্রয় নেন।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এবং সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’

 

লাইভের শেষাংশে তিনি জানান, তিনি থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে অবস্থান করছেন। মাহাদীর দাবি, একটি ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। নিরাপত্তা নিয়ে আগেই সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

Manual8 Ad Code

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে অনুসরণ করা হয় এবং হামলার উদ্দেশ্যে ধাওয়া দেওয়া হয়।

 

মাহাদী আরও দাবি করেন, তিনি আগে থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বাসও পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়।

 

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে মাহাদী হাসানের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধের তথ্য তারা জেনেছেন।

 

তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যে ভিডিওটি দেখেছি, সেখানে ছাত্রদলের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। মাহাদীও নির্দিষ্ট করে কাউকে দেখাতে পারেননি।’

 

জাহিদ হোসেন জানান, মাহদী হাসান মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে ভিডিওতে নির্দিষ্ট কোনো হামলাকারীকে শনাক্ত করা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

Manual2 Ad Code

উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করা হলে তিনি সেখানে যান। এ সময় ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’– এমন বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

 

ওইদিনের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

 

ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে পরদিন ৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পান তিনি।

 

Manual4 Ad Code

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন থানার সামনে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই ঘটনাকে ঘিরেই মাহাদীর জানুয়ারির বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

 

(সুরমামেইল/এমএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code