সিলেট ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০২৪
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজার জেলার কর্মজীবী মানুষের জীবন।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের সিনিয়র সহকারী আনিসুর রহমান বলেন, আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। উপজেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা নিচের দিকেই থাকতে পারে।
এরআগের দিন সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা কম থাকলেও সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিলেছে। ঝলমলে রোদ উষ্ণতা ছড়িয়েছে।
এদিকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শহরে তাপমাত্রা একটু বেশি থাকলেও হাওর, পাহাড় ও চা-বাগান এলাকায় বসবাসরত মানুষের খুব বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষজন। বিশেষ করে চা-বাগানগুলোয় শীত বেশি থাকায় কাজ করতে বেগ পোহাতে হয় চা–শ্রমিকদের।
চা শ্রমিকরা জানান, সন্ধ্যাবেলা চা-বাগানে প্রচণ্ড শীত পড়ে। আমাদের অনেক কষ্ট করে থাকতে হয়। সবার ঘরে চাহিদামতো গরম কাপড় নেই। সরকারের পক্ষ থেকে যদি শীতের কাপড় বিতরণ করা হতো, তাহলে উপকার হতো। শীত উপেক্ষা করেই আমাদের ভোরবেলায় কাজের তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হয়।
ফিনলে কোম্পানির লাখাইছড়া চা-বাগানের বাসিন্দারা জানান, আমাদের চা-বাগানের শ্রমজীবী নারী-পুরুষরা শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড় ও কম্বলের অভাবে খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের চা-বাগানের মানুষের খোঁজখবর প্রশাসনের কেউ রাখে না।
মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, জেলায় ১০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। প্রথম দফায় নগদ বরাদ্দ পাওয়া গেছে ২১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় দফায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসব টাকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুকূলে বরাদ্দ। কম্বল কিনে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।
মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান বলেন, প্রতিদিনের মতো শীতজনিত রোগে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালসহ উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে ভর্তি কম হলেও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন নানা বয়সী রোগী।
(সুরমামেইল/এমবিএন)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি