কানাইঘাটের সফল জননী মিনু বালা রায়

প্রকাশিত: ১:৩১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২৬

কানাইঘাটের সফল জননী মিনু বালা রায়

Manual7 Ad Code

কানাইঘাট প্রতিনিধি:
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা পর্যায়ে অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫ এর আওতায় সফল জননী নারী ক্যাটাগরীতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন ৩নং দিঘীপার পূর্ব ইউনিয়নের মাটিজুরা গ্রামের শ্রী পুতুল বিশ্বাসের স্ত্রী শ্রী মিনু বালা রায় (৪৬)।

Manual3 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

তিনি পেশায় একজন গৃহিনী। মাত্র পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ৪ সন্তানের এ সফল জননী মিনু বালা রায় সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার জামডহর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে শ্রী মিনু বালা রায়ের বিয়ে হয় এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে। সাংসারিক জীবনে তিনি একে একে ৪সন্তানের মা হন। এতে মনে অদম্য ইচ্ছা ছিল তার ছেলে মেয়েকে উঁচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। অভাব অনটনের মধ্যেও শ্রী মিনু বালা রায় ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল হারাননি। মাটিজুরা গ্রামটি স্কুল-কলেজ থেকে অনেক দূরে হাওড় অঞ্চলে অবস্থিত। চলাচলের জন্য ভালো রাস্তাও নেই। এরপরও সকল বাধাঁ পেরিয়ে তিনি সন্তানদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকেন।

Manual7 Ad Code

 

শ্রী মিনু বালা রায়ের বড় ছেলে শ্রী সুনান্ত বিশ্বাস পড়াশোনায় ভালো ছিলো। তিনির উৎসাহ ও প্রচেষ্টা তাকে ভালো ফলাফল অর্জনে সাহায্যে করেন। সুনান্ত বিশ্বাস এস.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮৮ এবং এইচ.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ পেয়ে মেডিকেলে ভর্তির জন্য প্রস্ততি নেয়। অনেক চেষ্টায় দূর্ভাগ্যবসত মাত্র ১ নম্বর কম থাকার কারণে সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ হয়নি।

 

পরবর্তীতে সৌভাগ্যক্রমে সিলেটের ২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মেধাবী কোটায় ভর্তির সুযোগ হয় সুনান্ত বিশ্বাসের। মেধাবী কোটায় মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় বিনা খরচে এম.বি.বি.এস শেষ করার সুযোগ লাভ করে সে। ২০১৯ সালে সিলেট পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হতে কৃতিত্বের সাথে এম.বি.বি.এস সম্পন্ন করে এবং বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান সুনান্ত বিশ্বাস। অবশেষে নিউরোসাইন্স ইন্সটিটিউট এ এম.ডি কোর্সে ভর্তির সুযোগ পান।

 

বর্তমানে তিনি স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য ঢাকায় প্রশিক্ষণরত। এই বছর তিনি ৪৮তম বিসিএস ক্যাডার (স্বাস্থ্য) এ সুপারিশ প্রাপ্ত হন।

 

মিনু বালা রায়ের দ্বিতীয় ছেলে মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে চাকুরীর প্রস্ততি নিচ্ছে। তৃতীয় ছেলে ও একমাত্র মেয়ে কানাইঘাট সরকারী কলেজে ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত।

 

Manual3 Ad Code

মিনু বালা রায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল ও অদম্য চেষ্টা দেখে এলাকার অন্যান্য অভিবাবকগণ তাদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। গ্রামবাসীসহ এলাকার মানুষ তার কাছে নানাবিধ পরামর্শের জন্য আসে। তিনির বড় ছেলের কাছে অনেক গরীব লোকজন আসলে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

 

মানবসেবার মতো মহৎ কাজে তার ছেলে যোগ দিতে পারায় তিনি নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করেন। শ্রী মিনু বালা রায় উপজেলা পর্যায়ে সফল জননী নারী ক্যাটাগরীতে মনোণীত হওয়ায় এলাকাবাসীও আনন্দিত।

 

(সুরমামেইল/এমআর)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code