গোয়াইনঘাটে কিশোর সুমন হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল ফতেপুর

প্রকাশিত: ২:১৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২৬

গোয়াইনঘাটে কিশোর সুমন হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল ফতেপুর

Manual4 Ad Code

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুরে বন্ধুত্বের আড়ালে ঘাতকচক্রের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া কিশোর সুমন আহমদের (১৭) খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ।

 

বুধবার (১৮ মার্চ) ফতেপুর বাজারে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়ে অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয় এলাকা।

 

বিচারের দাবিতে উত্তাল জনতা
৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এখলাসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও যুব সমাজের প্রতিনিধিরা।

 

এসময় বক্তারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘সুমনকে যেভাবে পশুর মতো জবাই করা হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। এই জনপদে এমন জঘন্য অপরাধের ঠাঁই নেই। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে গোয়াইনঘাটবাসী কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’

 

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘প্রভাবশালীদের ইশারায় যদি কোনো প্রকৃত খুনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে কঠোর জবাব দেবে।’

Manual4 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

“মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ, আমার কলিজার টুকরোকে ফিরিয়ে দাও”

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহত সুমনের মা সালমা বেগম। অশ্রুসিক্ত চোখে আকাশ-বাতাস ভারী করে তিনি আর্তনাদ করে বলেন, ‘আমার শান্ত ছেলেটারে ওরা ডেকে নিয়ে জবাই করলো। সে তো কারো ক্ষতি করেনি। আমি কোনো টাকা-পয়সা চাই না, আমি শুধু আমার বুকের মানিক হত্যার বিচার চাই। যে হাত দিয়ে ওরা আমার ছেলেকে জবাই করেছে, আমি সেই খুনিদের ফাঁসিতে ঝুলতে দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’

 

পুলিশি তদন্তে অসন্তোষ ও গুরুতর অভিযোগ:
মানববন্ধনে নিহত সুমনের পিতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রধান আসামী আশফাক আমার ছেলের সহপাঠী ছিলো তার অনেক অপকর্মের সাক্ষী ছিল, সুমন এর জেরে আমার ছেলে কে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে।’

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ছেলের লাশ দাফন করার পর বিচার চাইতে গিয়ে আমাকে থানার দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয়েছে। মামলা দায়ের করতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি স্পষ্ট করে ৬ জনের নাম দিলেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে ২ জনকে বাদ দিয়ে মাত্র ৪ জনের নামে মামলা রেকর্ড করেছে। কেন প্রকৃত আসামিদের আড়াল করা হচ্ছে?’

Manual8 Ad Code

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অসহায় বলে কি বিচার পাব না? আমি সিলেট জেলা পুলিশ পুলিশ সুপার এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমার ছেলের খুনিরা যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।’

 

ঘটনার পটভূমি।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ রাত ৮টার দিকে ফতেহপুর ইউনিয়নের বানিগ্রাম এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্ম থেকে সুমনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ও ডিবি অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করলেও সুমনের পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও রাঘববোয়াল জড়িত রয়েছে।

 

Manual3 Ad Code

(সুরমামেইল/জেআই)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code