জাফলংয়ে পর্যটকদের ওপর হামলাকারী ৫ জন কারাগারে

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০২২

জাফলংয়ে পর্যটকদের ওপর হামলাকারী ৫ জন কারাগারে

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের জাফলংয়ে পর্যটকদের উপর হামলাকারী পাঁচজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (০৬ মে) দুপুরে তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

শুক্রবার বিকালে সিলেট জজ কোর্টের পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সিলেটের জাফলংয়ে বেড়াতে আসেন ঢাকার কদমতলী থানার জুরাইন শ্যামনগর এলাকার সুমন সরকারের পরিবার। এ দলে ছিলেন আট নারী-শিশুসহ ১২ জন।

 

Manual6 Ad Code

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে কাউন্টারে এক শিশুর টিকিট কেনাকে কেন্দ্র করে কাউন্টারের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কাউন্টারে থাকা উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক লাঠি-শোটা ও পাইপ দিয়ে পর্যটকদের বেধড়ক মারধর শুরু করেন। তখন পাশে থাকা এক তরুণী ও কোলে থাকা শিশু সন্তান নিয়ে এক নারী হামলা থামানোর চেষ্টা করলে তারাও হামলার শিকার হন। এ সময় নারীদের শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন হামলার শিকার পর্যটকরা। এমনই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে

Manual3 Ad Code


।আরও পড়ুন


ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার ভিডিও এবং ছবি মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে বিকাল ৫টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও জাফলং সাব জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক ঘটনাস্থলে যান।

 

হামলায় ছয়জন নারী-পুরুষ আহত হন। পরে তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার দিন রাতেই হামলার শিকার পর্যটকরা ঢাকায় ফেরেন। এর আগে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা করেন সুমন সরকার নামে ওই পর্যটক।

 

পরে দু’দফায় হামলাকারী পাঁচজন স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। তারা হলো- গোয়াইঘাটের পন্নগ্রামের মৃত রাখা চন্দ্রের পুত্র লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস, ইসলামপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার পুত্র মো. সেলিম আহমেদ, নয়াবস্তি এলাকার ইউসুফ মিয়ার ছেলে সোহেল রানা, পশ্চিম কালীনগর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে নাজিম উদ্দিন, ইসলামপুর রাধানগর গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দীনের ছেলে জয়নাল আবেদীন।

 

হামলার শিকার পর্যটকরা অভিযোগ করেছেন- ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেও সহায়তা পাননি তারা। বৃহস্পতিবার রাতে জাফলং গ্রিন রিসোর্টের সামনে ভুক্তভোগী পর্যটকরা তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন গণমাধ্যর্মীদের কাছে।

 

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়। পুলিশ হামলার ছবি মুঠোফোনে তুলে পাঠানোর কথা বলে। পুলিশের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে হামলার ঘটনার ভিডিও ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হলে বিকালে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে।

 

মামলার বাদী পর্যটক সুমন সরকার বলেন, ‘টিকিট ছাড়া পর্যটন কেন্দ্রে ঢোকা যাবে না’-একথা বলেই নারীদের শরীরে হাত দেয় হামলাকারী স্বেচ্ছাসেবকরা। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে পর্যটক নারী-পুরুষদের উপর হামলা করে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকরা।

Manual4 Ad Code

 

সুমন বলেন, আমরা ঘটনার পর পরই ৯৯৯-এ কল করে সহযোগিতা চেয়েও পাইনি। আমাদের মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে জানালে ৯৯৯-এর ফোন রিসিভকারী পুলিশ মাথা ফাটানোর ছবি পাঠাতে বলেন।

 

হামলায় অনেকে আহত হলেও মামলার বাদি সুমনের অবস্থা গুরুতর জানিয়ে হামলার শিকার সম্রাট বলেন, সুমনকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাবেন। এখানে কোনো হাসপাতাল তাকে ভর্তি করতে চান না। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

হামলার শিকার বিথি সরকার বলেন, আমরা মেয়ে হয়েও হামলাকরীদের আটকাতে চেষ্টা করি। হামলার সময় তাদের একটাই কথা ছিল- ‘মেরেই ফেলবো’। আমাদের জামা-কাপড় খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে হামলাকারীরা। পশুর মতো আচরণ করেছে তারা।

 

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম জানান, হামলায় আহত সুমন সরকার বাদি হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Manual4 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code