সিলেট ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২৫
সুরমামেইল ডেস্ক :
যেকোনও বিদায়ের মুহূর্ত দুঃখের-গ্লানির। তবে কিছু কিছু বিদায়ে নতুন এক সূর্য ওঠার মুহূর্ত আবির্ভূত হয়। তেমনি বিদায় নিয়েছে ২০২৪, শুরু হয়েছে একটি নতুন বছর- স্বাগত ২০২৫। বিশ্ব যখন নানা রকম অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে পার হচ্ছে, এর বাইরে ছিল না বাংলাদেশও। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে বদলে গেছে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ক্ষমতার পালাবদল এনে দিয়েছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। এর মাঝেই সামনের দিনগুলোতে স্থিতিশীলতা আসবে, এমন প্রত্যাশা আছে সবার মধ্যে। নতুন বছর শুরু হলেও বারবার ফিরে তাকানোর ইতিহাস রয়ে গেছে ২০২৪-এ।
বিদায়ী বছরটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস রেখে গেছে- রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলের অবসান ঘটেছে। বছরের অর্ধেক সময়জুড়ে আলোচনায় ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন। ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারের জারি করা পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণার পর কোটা পদ্ধতির সংস্কার আন্দোলন আবার নতুন করে আলোচনায় আসে। প্রথম দিকে এই আন্দোলন সভা-সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি রূপ নেয় তীব্র আন্দোলনে। সরকারের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট। আন্দোলনের জেরে সারা দেশে কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়, নিহতের তালিকাও কম নয়।
তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট সরকারের পতন ঘটে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে আশ্রয় নেন ভারতে। সংকটময় মুহূর্তে নিজ কাঁধে দায়িত্ব নেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সরকার প্রধান হিসেবে নাম প্রস্তাব করা হয় নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। নাম ঘোষণার ৩ দিন পর ৮ আগস্ট তার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরু হয়।
তবে এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হয়। যার ফলে সারা দেশে সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। এলাকাভিত্তিক ক্যাম্প তৈরি করা হয়। দেশে বেশিরভাগ থানা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত, পুলিশ ছিল দায়িত্ব থেকে দূরে। ক্ষমতার পালাবদলের পরিপ্রেক্ষিতে বেড়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে গুজবের মাত্রা। বিশেষ করে ডাকাতের খবরে অনেক এলাকায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে অনেককেই। পাড়া-মহল্লায় এলাকাবাসীই পাহারা দেওয়া শুরু করেন একপর্যায়ে।
বিদায়ী বছরে আরও উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীদের সাজা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে সাজার মুখে পড়েন প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরা। সেখান থেকে ১৮৮ জনকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এসব ঘটনার মধ্যেও আশা জাগিয়েছে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স। বিদায়ী বছরের শুরুতে দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স আসার গতি বাড়তে থাকে। এপ্রিল, মে ও জুন মাসে টানা দুই বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। জুনে তা কমে ফের দুই বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জুলাই মাসে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ ঘোষণা দিয়ে টাকা পাঠানো কমিয়ে দেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এতে কমে যায় রেমিট্যান্সের গতি। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবারও রেমিট্যান্সের গতি বেড়ে যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। যা তার আগের বছরের (২০২৩) একই সময়ে এসেছিল ২১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে ২০২৪ সালের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
বিদায়ী বছরে আরেকটি ভালো খবর ছিল টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ঘরে তুলে আনেন বাংলাদেশের মেয়েরা। তাদের দেওয়া হয় সংবর্ধনা। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসের মাধ্যমে রাজসিক সংবর্ধনা দিয়ে তাদের বরণ করে নিয়েছে বাফুফে।
একইসঙ্গে ভারতকে ফাইনালে হারিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ শিরোপা জেতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল।
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি