নবীগঞ্জে পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব!

প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২৫

নবীগঞ্জে পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব!

Manual4 Ad Code

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দূর্গম পাহাড়ী অঞ্চল দিনারপুরে অবাধে পাহাড়ি টিলা কাটার মহাৎসব চলছে। একশ্রেনীর লোকজন রাজনৈতিক আশ্রয়ে দেদারছে টিলা কাটা চলমান রেখেছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করেও বন্ধ করতে পারছে পাহাড় ও টিলা কাটা।

 

Manual6 Ad Code

নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ও পানিউমদা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাহাড় ও টিলা কাটা হচ্ছে। ইদানিং পানিউমদা ইউনিয়নে বড়চর পাহাড়ে পাহাড় খেকো চক্র আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

 

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অভিযান, মামলা, জরিমানা আদায় ও গ্রেফতার করা হলেও পাহাড় খেকোদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না নবীগঞ্জের পাহাড়ি টিলাগুলো। তারা প্রশাসনের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল প্রর্দশন করে পরিবেশ আইন অমান্য করে দেদারছে পাহাড় ও রটিলা কাটছেন।

 

এই অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে পাহাড়টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, পল্লী বিদ্যূতের খুঁটি নানা স্থাপনা ও বেআইনিভাবে পাহাড় কাটার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র ও পরিবেশ।

 

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে ও রাতের আঁধারে পাহাড় ও টিলা কাটা হয়। পাহাড় কেটে সাবার করা হচ্ছে। টিলা কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ফেলা হচ্ছে। কখনো প্রকাশ্যে কখনো রাতের আঁধারে পাহাড়ের মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ পাহাড় কেটে সমতল করে ফসলি জমি বা বসতি স্থাপন করছেন। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে পাহাড় কাটার দায়ে জরিমানা ও জেল দিলেও থামছে না পাহাড় কাটা।

 

এভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পবিরেশবাদীরা।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে- নবীগঞ্জ উপজেলার ওই বড়চর পাহাড়ে এলাকার প্রভাবশালী পাহাড় খেকো শাহ্ রবিক মিয়া, আবকুল ফজল মিয়া ও গোলাম মোস্তফার একটি সিন্ডিকেট একই গ্রামের ফজল মিয়ার দখলে থাকা সরকারি টিলা ও মেহের উল্ল্যার দখলে থাকা সরকারি টিলা রকম ভুমি থেকে রাতে ও দিনের বেলায় ভেকু মেশিন এক্সলেটর মেশিন লাগিয়ে দেদারছে পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি করছে অন্যত্র।

 

Manual2 Ad Code

সেই মাটি একই গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী দারাজ মিয়ার কাছে চড়া দামে বিক্রি করেছে। দরাজ মিয়া বলেন, আমি তাদের কাছে থেকে মাটি কিনছি। তারা পাহািড় টিলা কেটে দিলে সেটা আমি জানি না।

 

এছাড়া একটি টিলা কেটে শাহ রকিব মিয়ার নিচু জমি ভরাট করেছেন। তিনি বলেন, আমার মাটি আমি আমার জায়গায় টিলা কাটছি, টিলা কাটতে আবার অনুমতি লাগে নাকি।

 

শাহি রকিব আলী পাহাড় কাটার সময় পল্লী বিদ্যুৎ এর একটি মেইন লাইনের খুঁটির চারপাশ খনন করে টিলা কেটে মাটি নেয়ার জন্য খুঁটিটি হেলে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে এই খুঁটি পড়ে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। বিদ্যূতের খুঁটির আশপাশে ঘন বসতি বাড়ী-ঘর থাকার ফলে যে কোন সময় খুঁটি উপড়ে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা সংগঠিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

 

তবে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস নবীগঞ্জ ও বাহুবল উভয় অফিসের কর্মকর্তাগণ পরিদর্শন করে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্র জানিয়েছেন- পাহাড় কাটার বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বললে তারা কো সুদুত্তর দেননি।

Manual5 Ad Code

 

নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যূত অফিসের ডিজিএম আসাদুজ্জামান অনুজ বলেন, আমরা এই বিষয়ে খবর পেয়ে বাহুবল পল্লী বিদ্যূৎ অফিসকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।

 

বাহুবল পল্লী বিদ্যূতের এজিএম অমলেশ সরকার বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঐ জায়গা গিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপরে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমাদের খুঁটি টিলা কেটে নেয়ার কারনে হেলে পড়েছে। যারা পাহাড়স কাটছে তাদেরকে আমরা পাইনি। এলাকার লোকজন ও নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বলছে কে পাহাড় টিলা কাটছে সেটা তারা জানেনা। তবে আমরা খোঁজ খবর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।

 

পানিউমদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নে কিছু লোক প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটছেন। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে।

Manual2 Ad Code

 

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন জানান, পাহাড় কাটার খবর পেলেই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। বিভিন্ন সময় জেল জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

(সুরমামেইল/এমএএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code