নামাজের ব্যাপারে খুব সাবধান হতে হবে

প্রকাশিত: ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৬

নামাজের ব্যাপারে খুব সাবধান হতে হবে

Manual8 Ad Code

downloadআগে নামাজ পরে কাজ- এটা ঈমানদারের কথা ও কাজ। আগে কাজ শেষ করে নিই পরে নামাজ পড়ব- এমন কথা যারা বলে তারা নামাজের গুরুত্ব বুঝেনি। ওয়াক্ত মোতাবেক নামাজ আদায় করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সময়মতো নামাজ পড়লে নামাজের অধীন থাকা হয়। সময়মতো নামাজ না পড়লে নামাজের অধীন থাকা হয় না বরং নামাজ তখন ব্যক্তির অধীনে চলে যায়। যখন ইচ্ছা তখন নামাজ পড়লে নামাজ হয় না। একজন মুমিন কখনও নামাজকে নিজের অধীনে নিতে পারে না, বরং তাকেই নামাজের অধীন থাকতে হয়, নামাজের নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হয়, নামাজের মর্যাদা অনেক ওপরে। নামাজের ও কাজের মর্যাদা সমান নয়। নামাজকে সকল কাজের ওপরে রাখতে হবে, কাজকে নামাজের ওপর রাখা যাবে না।

সবসময় নামাজকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সময়মতো নামাজ আদায় করতে হবে। মূলত নামাজ নির্ধারিত সময়ে পড়ার জন্যই মুমিনদের ওপর ফরজ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর নবী! কোন কাজটি জান্নাতের অতি নিকটবর্তী করে দেয়? তিনি বললেন, সময়মতো নামাজ পড়া। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর নবী! তারপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর নবী! তারপর কোনটা? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। -সহিহ মুসলিম শরিফ

Manual6 Ad Code

হাদিসে নামাজের গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে। ওই সব হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

Manual8 Ad Code

১. তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখো। –সহিহ বোখারি

Manual1 Ad Code

২. কিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব হবে নামাজের, তাই নামাজের ব্যাপারে খুব সাবধান হতে হবে।

৩. এক ব্যক্তিকে একা একা নামাজ পড়তে দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার ভাইকে সাহায্য করো, নামাজ পড়া হয়ে গেছে এমন লোক উঠে গিয়ে তাকে জামাত করতে সাহায্য করলেন।

৪. নামাজের আজান শুনে জবাব দিয়ে আজানের দোয়া বললে তার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যায়।

৫. কোনো ব্যক্তিকে নিয়মিত জামাতে শরিক দেখতে পেলে তার মুমিন হওয়ার ব্যাপারে সাক্ষ্য দাও।

৬. আজান শুনে নামাজের জন্য জামাতে শরিক না হলে তার ঘরে আগুন লাগানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কিন্তু শিশুদের কথা ভেবে তা করেননি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত  এক হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শপথ করে বলেন, আমার এরূপ ইচ্ছা হয় যে, আজানের পর কাউকে ইমাম বানিয়ে নামাজ শুরু করার আদেশ দেই এবং আমি ওইসব লোকের বাড়ি খুঁজে বের করি; যারা নামাজের জামাতে শরিক হয়নি এবং কারও দ্বারা জ্বালানি কাঠ আনিয়ে তাদের ঘরে থাকা অবস্থায় বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেই। -সহিহ বোখারি শরিফ

৭. তিনটি বিষয়ে বিলম্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে। নামাজ সময়মতো আদায় করা, জানাজা উপস্থিত হলে জানাজা সম্পন্ন করা ও বিবাহযোগ্য নারীর উপযুক্ত বর পাওয়া মাত্র বিয়ের ব্যবস্থা করা। -সুনানে তিরমিজি

৮. কোন আমলটি অতি উত্তম? হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রথম ওয়াক্তে নামাজ পড়া। -আহমদ

৯. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উঠিয়ে নেওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো নামাজকে তার শেষ ওয়াক্তে আদায় করেননি। -সুনানে তিরমিজি

Manual6 Ad Code

১০. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জামাতের নামাজ একাকী নামাজ অপেক্ষা ২৭ গুণ বেশি সওয়াব। -সহিহ বোখারি শরিফ

১১. নামাজ দ্বীনের খুঁটি, যে তাকে ঠিক রাখল, সে দ্বীনকে ঠিক রাখল। যে তাকে ভেঙে ফেলল, সে দ্বীনকে ভেঙে

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code