বহুমুখি বৈচিত্রের শ্রীভূমি সিলেট

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৭

বহুমুখি বৈচিত্রের শ্রীভূমি সিলেট

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত রচয়িতা, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছয়দিনের সিলেট সফরে এসেছিলেন ১৯১৭ খৃস্টাব্দের ৬ নভেম্বর।

শ্রীভূমি সিলেট-এর সবুজ-শ্যামল ঘেরা সৌন্দর্য্যরে পাহাড়-টিলা, নদী-নালা হাওর, ঝর্ণা পাথরের সমারোহ দেখে কবিগুরু মুগদ্ধ হয়ে তখনই লিখেছিলেন, ‘মমতা বিহীন কালো স্রোতে/বাংলার রাষ্ট্র সীমা হতে/ নির্বাসিতা তুমি/সুন্দরি শ্রীভূমি…..।’

ছবিতে মরমী কবি হাসন রাজার বাড়ি।

এখই রকম বিশ্বখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা চীনের ইউয়েন সাঙ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে এই সিলেটকে অসংখ্য পর্যটক এবং প্রকৃতি প্রেমিকে মোহিত করেছে। চারিদিকে পাহাড় ঘেষা অপরূপভাবে সাজানো সিলেট মহানগরীর মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ভারতের বারাক থেকে আগত ঐতিহ্যবাহী সুরমা নদী। পাহাড়ী ঝর্ণারাশির ফলগুধারা খাল-বিল-ছড়া, দিগন্ত বিস্তীর্ণ হাওর, সবুজ চা-বাগানের ভিতরে আঁকা-বাঁকা মেঠোপথ শ্রীভূমি সিলেটকে প্রকৃতির অন্যণ্যরূপে সাজিয়েছে। প্রকৃতির মনের মাধুরি মেশানো সিলেট মানুষের মুখে ‘পর্যটন নগরী’ হিসেবে সকল মহলের কাছে পরিচিতও সমাদৃত।

দিরাইয়ের দল গ্রামে অবস্থিত একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল শাহ আব্দুল করিমের বাড়ি।

সিলেটের রূপ সৌন্দর্য্যে মুগদ্ধ হয়ে পল্লী কবি জসিম উদ্দিন লিখেছেন, ‘সিলেট একটি কবিত্বময় পরিবেশের আদিনিবাস, এখানে বাস করে কবি না হয়ে পারা যায়না।’

Manual7 Ad Code

এই সুজলা-সুফলা-শ্যামল প্রকৃতির সাথে চিটিয়ে-ছড়িয়ে রয়েছে শ্রীভূমি সিলেটের আধ্যাত্মিকতায় মুড়ানো সিলেটের অন্য আরেকটি রূপলাবণ্য। সিলেট নগরীর হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং নগর সন্ন্যিকটবর্তী হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার ধর্মপ্রাণ মানুষকে আকৃষ্ট করে রেখেছে। অন্যদিকে বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর পৈতৃক বাড়ি দেখতে অনেকে গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিনে ছুটে আসেন। মহনগরীর পাশেই রয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম প্রধান চা-বাগান মালনী ছড়া চা-বাগান, সুরমা নদীর উপর দৃষ্টিনন্দন ক্বীন ব্রিজ, আলী আমজদের ঘড়ি, চাদনীঘাটের সিঁড়ি, শেখঘাটে জিতু মিয়ার বাড়ি। এই শ্রীভূমি সিলেটের ঐতিহ্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।

Manual2 Ad Code

সিলেট নগরীর সুরমা নদীর পারে অবস্থিত আলী আমজদের ঘড়ি ও ক্বীন ব্রিজ।

Manual1 Ad Code

সতেরো শতকের প্রথমদিকে নির্মিত শাহী ঈদগাহ, চৌহাট্টায় অবস্থিত অনবদ্য নির্মাণশৈলীর সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, কবিগুরুর স্মৃতিবিজরিত মনিপুরি মন্দির, খাদিম জাতীয় উদ্যান, টিলাগড় ইকোপার্ক পর্যটকদের মুগদ্ধ করেছে।

Manual4 Ad Code

মৌলভীবাজারের মাধবকুন্ড জলপ্রপাত।

২০১৪ খৃস্টাব্দের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করতে এসে কোনো সরকার প্রধান এই প্রথম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলার ঘোষণা দেন। এছাড়া ছোট-বড় পাথরের পাহাড় ঢিঙ্গিয়ে নেমে আসা বিছনাকান্দি, পান্তুমাই, লোভাছড়া, কুলুমছড়ায় ইদানিং প্রকৃতি প্রেমিদের ভীর একটু বেশী দেখা যাচ্ছে। এখানে রয়েছে ইতিহাসের আরেকটি স্বাক্ষি ‘জৈন্তা রাজবাড়ি’, লালাখালসহ অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র। যাহা পর্যটকদের প্রকৃতির সাথে মিল বন্ধন তৈরী করতে সহায়তা করে। এরকমই মৌলভীবাজারের মাধবকুন্ড, হাকালুকির হাওর, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কমলগঞ্জের মাধবপুর ল্যাক, হামাম জ্বলপ্রপাত, সুনামগঞ্জে ছোট-বড় শতাধিক হাওর, মরমী কবি হাসন রাজার বাড়িতে গড়ে ওঠা জাদুগর, দিরাইয়ের দল গ্রামে একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল শাহ আব্দুল করিমের বাড়ি, হবিগঞ্জের সাতছড়ি অভয়ারণ্য, রেমা কালেঙ্গা উদ্যান মিলে পর্যটকদের কাছে বৈচিত্রের আরেক নাম ‘শ্রভূমি সিলেট।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code