সিলেট ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের অর্থবছরের চেয়ে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, দুই দেশের মোট বাণিজ্য এখন প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। আর বাকিটা ভারত রপ্তানি করে বাংলাদেশে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য দেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেশি থাকার বিষয়টি তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর এ সদস্য জানতে চান ঘাটতি কমানোর কোনো পদক্ষেপ সরকারের আছে কিনা?
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারত ও চীনের সঙ্গে ঘাটতি সবচেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, জিনিসটি দেশভিত্তিক না দেখে সামগ্রিকভাবে দেখা দরকার। পৃথিবীর বহু দেশে আমদানি বেশি রপ্তানি কম, আবার উল্টো দিকে রপ্তানি বেশি আমদানি কম। তবে পুরো বিশ্বের হিসাব ধরলে আমদানি-রপ্তানি সমান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যে বিষয়টিতে নজর দেওয়া দরকার সেটা হল দেশের সামগ্রিক রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো। সে জন্য কয়েকটি খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টর এরকম বেশ কয়েকটি খাত। যেগুলোর মধ্যে রপ্তানি সক্ষমতা আছে সেগুলোর রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে সরকার নীতি সহায়তা বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, বলেন তিনি।
আর যেগুলোর রপ্তানি সক্ষমতা সে পর্যায়ে যায়নি সেগুলোতে এ পর্যায়ে আনতে চান বলে তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী।
জামায়াতের সদস্যের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত বছরের যে পরিসংখ্যানের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই ঘাটতিটা আরও বেড়েছে। প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন হচ্ছে আমাদের এখন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য। যেখানে আমরা রপ্তানি করি ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন। আর বাকিটা ভারত রপ্তানি করে আমাদের দেশে।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ভারতের রপ্তানি সক্ষমতা আরো বেশ কয়েকটি খাতের আছে। ভারতের দিক থেকেও কিছু বাধা আছে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিককালে, গত দুই বছরে আমাদের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথাও সংসদে তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে অবকাঠামো উন্নয়নে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ওই প্রতিনিধি দল। সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। এভাবে, সমন্বিতভাবে আমরা চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে আমাদের রপ্তানি অধিকতর বৃদ্ধি করা যায় ভারতে।
ভারত থেকে আমদানি বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, সরকার আমদানি করে না, মূলত বেসরকারি খাত, যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করেন তারা আমদানি করেন। তারা যখন আমদানি করেন, তখন অন্যান্য উৎসের তুলনায় যেটি প্রতিযোগিতায় সক্ষম, কম মূল্যে পাওয়া যায় সেটিই তারা আমদানি করতে উদ্যোগী হন।
উৎস হিসেবে ভারত বড় উৎস হলেও ব্যবসায়ীরা তাদের সুবিধা অনুযায়ীই আমদানি করেন, বলেন তিনি।
বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে ভারতের সঙ্গে গত পাঁচ অর্থবছরের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্যও দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন।
২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতি কমে হয় ৭ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন। তা আবার বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।
(সুরমামেইল/এফএ)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি