বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ২০০ ডিজিটের টোকেন, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

প্রকাশিত: ২:১৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ৯, ২০২৬

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ২০০ ডিজিটের টোকেন, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

Manual4 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে গিয়ে নতুন ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেটে গ্রাহকেরা। কয়েকদিন আগেও যেখানে রিচার্জের জন্য ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর ব্যবহার করা হতো, সেখানে এখন অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ২০০ থেকে ২৪০ ডিজিটের দীর্ঘ টোকেন নম্বর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী।

 

গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ এই টোকেন নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে বারবার ভুল হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রিচার্জ সম্পন্ন হচ্ছে না, আবার কারও কারও মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। এতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে

 

Manual2 Ad Code

এদিকে, হঠাৎ কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক গ্রাহকরা। ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রাহক জানান, রিচার্জের পর গ্রাহকদের মোবাইলে প্রায় ২০০ ডিজিটের টোকেন পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘ নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে অনেকেই একাধিকবার ভুল করছেন এবং এতে নতুন করে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।

Manual5 Ad Code

 

নগরীর বালুচর এলাকার বাসিন্দা সজিব উদ্দিন নামের এক গ্রাহক জানান, বাসার মিটারে রিচার্জ শেষ হওয়ায় তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৬০০টাকা রিচার্জ করেন। এরপর কর্তৃপক্ষ তাকে এসএমএসের মাধ্যমে প্রায় ২০০ সংখ্যার একটি টোকেন দেয়। এতে তিনি হিমশমের মধ্যে পড়ে যান।

Manual4 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, ‘এত দিন রিচার্জের পর সবসময় ২০ সংখ্যার একটি টোকেন দেওয়া হতো। কিন্তু এখন ২০০ ডিজিটের টোকেন দিয়েছে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।’ এতে তিনি হতভম্ব হয়ে পড়ি। পরে অনেক চেষ্টার পর রিচার্জ করতে সফল হই।’

 

এ অবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বিদ্যুৎ রিচার্জ ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘ টোকেনের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় বা ডিজিটাল ভেরিফিকেশন পদ্ধতি চালু করা গেলে গ্রাহকদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে জানান তারা।

 

নগরীর মদিনা মার্কেটের বাসিন্দা সাকির উল হক জানান, রিচার্জের পরে তাকেও প্রায় ২৪০ ডিজিটের একটি টোকেন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে আধুনিকতার এই সময়ে এসে এমন ভোগান্তি যৌক্তিক নয়, বরং কিভাবে সহজে হয় বা নাগরিকতা সহজভাবে সেবা নিতে পারেন সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত ছিল।’ তাই দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে নগরবাসীকে ভোগান্তি থেকে মুক্ত করার আহ্বান করেন তিনি।

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামী। দলের নেতারা এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পর গ্রাহকদের ২৪০টি টোকেন নম্বর ব্যবহার করে রিচার্জ করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে একাধিকবার ভুল টোকেন দেওয়ার কারণে মিটার লক হয়ে যাচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন তারা।

 

তবে প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভোগান্তির ঘটনা নতুন নয়। গত বছরের জুলাই মাসে সার্ভার জটিলতা ও রিচার্জ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় সিলেটের হাজারো গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েছিলেন।

 

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইট আপডেটের কারণে এমন সমস্যা হচ্ছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর এক কর্মকর্তা বলেন, বৈদ্যুতিক মিটারের ট্যারিফ পরিবর্তন করার কারণে গ্রাহকেদের একবার দীর্ঘ টোকেন ব্যবহার করতে হচ্ছে। একবার সতর্কতার সঙ্গে টোকেনটি সঠিকভাবে রিচার্জ করলে মিটার নতুন ট্যারিফ বুঝে যাবে এবং পরবর্তী রিচার্জে পুনরায় স্বাভাবিক টোকেন পাওয়া যাবে।

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code