সিলেট ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০১৭
সাঈদ আনোয়ার, রাজশাহী থেকে :: রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের ডাঙাপাড়া গ্রামে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চার শিশুসহ অন্তত ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার গভীর রাতে এই অভিযানের সময় ওই বাড়ি থেকে দুইটি সুইসাইডাল ভেস্ট, ৫ রাউন্ড গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী।
আটককৃতরা হলেন- বাড়ির মালিক রমজান আলী, তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন, তাদের দুই ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (২৬), ইসরাফিল হোসেন (২৪), মেয়ে হাওয়া খাতুন, ইব্রাহীমের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন, ইসরাফিলের স্ত্রী হারেসা খাতুন, জামাতা রবিউল ইসলাম (২৫) ও চার শিশু।
শিশুদের মধ্যে হাওয়া খাতুনের এক ও মর্জিনা খাতুনের তিন শিশু কন্যা। যাদের বয়স এক মাস থেকে নয় বছর পর্যন্ত।
বাড়িটির মালিক রমজান আলী উপজেলার গৌরাঙ্গপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। আটককৃতদের মধ্যে ইব্রাহীম, ইসরাফিল ও রবিউলকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আর নয়জনকে সোমবার সকালে থানা হেফাজতে আটকে রাখা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাজশাহী জেলা পুলিশ ইব্রাহীমের বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। এসময় ওই বাড়ি থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে বলা হয়। পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই বাড়ি থেকে তিনজন বের হয়ে আসে। পরে বাড়ির ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে দুইটি সুইসাইডাল ভেস্ট, একটি ৭.৬২ মডেলের এমএম বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
সুমিত চৌধুরী আরো বলেন, ওই বাড়িতে একটি শক্তিশালি বোমাসহ কিছু বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে। বাড়িটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। বোমা নিস্ক্রিয় টিম আসার পর ওই বোমাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ইব্রাহীম, ইসরাফিল ও রবিউল তিনজনই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। আটকের পর তাদের তানোর থানায় নেওয়া হয়। বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যে এ অভিযান চালানো হয়।
সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে সকালে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী। তবে ওই বাড়িতে আর কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
পাঁচন্দর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মুঞ্জুরুল ইসলাম মুঞ্জু বলেন, ১০-১২ বছর ধরে রমজান আলীর পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদের নামাজ পড়তো। চলতি রমজান মাসেও তারা সৌদি আবরের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে থেকে রোজা রাখা শুরু করে। গত বছর রমজান আলী ও তার স্ত্রী আয়শা বেগম হজ করেছেন।
মুঞ্জু বলেন, ইব্রাহীম ও ইসরাফিল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছে। বর্তমানে ইব্রাহীম বাড়িতে সার কিটনাশকের দোকান দিয়ে ব্যবসা দেখাশোনা করে। আর ইসরাফিল জমি চাষাবাদ করে। আর তাদের ভগ্নিপতি রবিউলের বাড়ি পাশের গ্রমের চকপাড়ায়। রবিউল কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে। সন্তান হওয়ার পর থেকে রবিউল শ্বশুর বাড়িতে ছিল।
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি