সিলেট ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:১০ পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০১৮
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার মঙ্গলবার (০৮ মে) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রাবির অধ্যাপক ড. রেজাউল হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বগুড়ার শিবগঞ্জের মাসকাওয়াত হাসান ওরফে আবদুল্লাহ ওরফে সাকিব ও শরিফুল ইসলাম। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নীলফামারীর মিয়াপাড়ার রহমত উল্লাহ, রাজশাহী নগরের নারিকেলবাড়িয়া এলাকার আবদুস সাত্তার ও তার ছেলে রিপন আলী।
আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় দেওয়ার আগে আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সকাল থেকেই গণমাধ্যমকর্মীসহ উৎসুক জনতা আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।
পাঁচজনের আসামির মধ্যে শরিফুল ইসলাম পলাতক। আজ আদালতে মাসকাওয়াত হাসান, রহমত উল্লাহ, আবদুস সাত্তার ও রিপন আলীকে হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়ার শালবাগান এলাকায় বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে অধ্যাপক রেজাউলকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন বিকেল ৪টার দিকে নিহত শিক্ষকের ছেলে সৌরভ হোসেন বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়। ওই সময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মো. শামসুদ্দিন জানান, ব্লগারদের হত্যার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের শতভাগ মিল রয়েছে। পরবর্তী সময়ে জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ দাবি করে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
একই বছরের ২৬ এপ্রিল এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মসজিদের ইমামসহ বাগমারা থেকে দুজনকে আটক করে পুলিশ।
রেজাউল করিম হত্যা মামলাটি তদন্ত করেন নগরীর গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক রেজাউস সাদিক। প্রায় সাড়ে ছয় মাসের তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আটজনকে আসামি করে প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দেন তিনি। এর মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বর্তমানে বগুড়ার শিবগঞ্জের মাসকাওয়াত হাসান ওরফে আব্দুল্লাহ কারাগারে। এ ছাড়া অন্য তিনজন জামিনে রয়েছেন।
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি