শেরখাই-নরখাই নদীর খাল খনন নিয়ে পুকুর চুরির অভিযোগ!

প্রকাশিত: ১:০৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২৬

শেরখাই-নরখাই নদীর খাল খনন নিয়ে পুকুর চুরির অভিযোগ!

Manual6 Ad Code

নবীগঞ্জের কামারগাঁও নদীর খাল খনন কর্মসূচীর মাটি গাড়ি দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।


নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গ্রহণ করা প্রকল্পে পুকুর চুরি অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। প্রকৌশলী অফিসের নীরবতায় মনগড়াভাবে চলছে প্রকল্পের কাজ। এনিয়ে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ হলেও কোন কর্নপাত করছেন না প্রকল্প কমিটি। অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের দেয়া হচ্ছে বাঁধা। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে (ফেসবুকে) নানা ভাবে হেনস্থা করছে কমিটির মনোনীত লোকজন।

 

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় শেরখাই ও নরখাই নদীর জাইকা প্রকল্পে নদী খননের কাজে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত প্রকল্পের কাছে চলছে কমিশন বাণিজ্য। কমিশনের মাধ্যমে নামখা ওয়াস্তে কাজ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা একটি প্রভাবশালী চক্র। ওই চক্রের প্রধান হচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা।

 

বিগত সরকারে আমলে গ্রহণ করা ওই প্রকল্পের সভাপতি হলেন- ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক খালেদ হাসান দোলন। তিনি জাইকা প্রকল্পের ৬ কোটি ১২ লাখ টাকা নয়ছয় করার জন্য নিজস্ব লোক দিয়ে একটি সাজানো কমিটি গঠন করেন। আওয়ামী লীগের সরকার পরিবর্তনের পর তিনি কৌশল করে কমিটিতে এলাকার কিছু বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও এনসিপি নেতা কর্মীদের উক্ত কাজে সংযুক্ত করেন।

 

Manual4 Ad Code

যুবলীগ নেতা খালেদ হাসান দোলনের সাজানো কমিটি দিয়ে চলছে নানা রকম অনিয়ম দূর্নীতির রাম রাজত্ব।

 

নদী দুটির মধ্যে ২/৩ ফুট খনন করে প্রকল্পের মাটি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। সরকারী বিধান অনুযায়ী ১০ ফুট খনন করা, নদীর তীরে বাঁধ নির্মান করা, শতাধিক শ্রমিক নিয়োগ করার কথা থাকলেও এনিয়মের কোন বাস্তবায়ন নেই। সরকারী নিয়মকে উপেক্ষা করে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসকে ম্যানেজ করে মনগড়া বিল তৈরী করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, সামনে বর্ষা মওসুম আসলে পানির মধ্যে নদী খননের বিল বেশি দেখানো জন্য ইচ্ছে করে কাজে বিলম্ভ করা হচ্ছে।

 

সরজমিনে এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা গেলে ছবি তুলতে ও লাইভ ভিডিও করতে বাঁধা দেন প্রকল্পের দাযিত্ব থাকা শাহান চৌধুরী নামে একজন যুবক। তিনি বলেন, তার অনুমতি ছাড়া কেউ ছবি তুলতে পারবেন না। এনিয়ে সাংবাদিকদের সাথে তার বাঁধানোবাদ হয়। এলাকায় প্রকল্প কমিটির বিশাল একটি লাটিয়াল বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি।

 

ছাদিক মিয়া নামে একজন অভিযোগ করেছেন- জাইকা প্রকল্পের জন্য যে, সমিতি গঠন করা হয়েছে তার সম্পূর্ন সাজানো। লোক দেখানো প্রলেপ দিয়ে নদী খনন হচ্ছে বলে বিল তোলা হচ্ছে। ২/৩ ফুট গভীর নদী খনন করে এটা সরকারে কোটি কোটি নয়-ছয় করা হচ্ছে। আর নবীগঞ্জ প্রকৌশলী অফিস কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রজেক্টের কাছে নয়-ছয় করছে। শষ্যের মধ্যে ভূত থাকলে তারাবে কে? এনিয়ে অভিযোগ দিয়ে, মানববন্ধন করে কোন লাভ হয়নি প্রশাসন কর্নপাত করেননি।

 

জালাল উদ্দিন বলেন, মূলত; নদী দুটি যদি কম পক্ষে ১০/১৫ হাত গভীর করে খাল খনন করা হতো তাহলে এলাকাবাসীর একটি উপকার হতো। যে পরিমানের খনন করা হচ্ছে এটা এক মওসুমেই ভরাট হয়ে যাবে, তাই কোন কাজে লাগবে না এই খাল খনন কর্মসূচী।

 

ঐ এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, সরকারী প্রজেক্টের খাল খনন করা হচ্ছে, এই খালের খনন করে মাটি পাশে রাখার কথা হলেও সেই মাটি অন্যত্র বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। ২/৩ ফুট গভীর করে কি লাভ এক বছরেই সব ভরাট হয়ে যাবে। এটা নদী নদী খনন না উঠান প্রলেপ বুঝা যাচ্ছে না। নদী বলেন আর খাল বলেন এই প্রজেক্টে পুকুর চুরি হচ্ছে কেউ দেখার নেই মনে হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

 

শেরখাই ও নরখাই নদীর খাল খনন জাইকা প্রকল্পের সভাপতি খালেদ হাসান দোলন বলেন, আমরা কাজ করছি না, এই কাজ আমরা টেন্ডারে মাধ্যমে করছি। কোন অনিয়ম হলে এটা উপজেলা প্রকৌশলী অফিস দেখবেন। আমরা সমিতির অফিস আদালত করার জন্য কিছু কমিশন নিয়েছি।

 

তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি সভাপতি হলেও কাজ করেন ঠিকাদার ও প্রকৌশলী অফিস কাজ করছেন, তারা আমাদের সমিতিকে একঠি লাভ্যংশ দেবেন। অনিয়ম হলে তারা জবাব দিবেন। মাটি বিক্রি করা হয়েছে কি না আমি বিষয়টি জানিনা।তবে এলাকার কিছু মানুষ নিজের প্রয়োজন মাটি নিয়ে গেছেন আমাদের অনুমতি নিয়ে।

 

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের প্রজেক্টের দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী সিরাজ মোল্লা বলেন, আমি সব কিছু জানিনা। আমাদের দেখা শোনার দায়িত্ব তাই দেখছি, কোন অনিয়ম হলে সেটা দেখবো। বিস্তারিত জানতে হলে অফিসের আসতে হবে।

Manual7 Ad Code

 

উল্লেখ্য, নবীগঞ্জ উপজেলার শেরখাই ও নরখাই নদীর খাল খনন শুরুর পুর্বেই বিগত আওয়ামীলীগ সরকারে আমলে অনেক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসুচী পালন হলেও দলীয় প্রভাব বিস্তার করে কমিটির সভাপতি যুবলীগ নেতা খালেদ হাসান দোলন কাজ চালিয়ে যান। সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন উক্ত প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকল্ওে আবারও ইদানিং তিনি কাজ শুরু করেছেন। তাই খালেদ হাসান দোলনের খুঁটির জোর নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এমএএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code