সাত ধাপ পেরিয়েও পুলিশে চাকরি হলো না আসপিয়ার!

প্রকাশিত: ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২১

সাত ধাপ পেরিয়েও পুলিশে চাকরি হলো না আসপিয়ার!

Manual7 Ad Code

সুরমা মেইল ডেস্ক :
পুলিশে চাকরি পাচ্ছেন আসপিয়া ইসলাম এ খবরে পরিবার থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মনে বইছিল খুশির জোয়ার। আসপিয়া চাকরিতে যোগ দেবেন শিগগিরই। এরপর অভাব ঘুচে সচ্ছলতার মুখ দেখবে তার পরিবার।

 

কিন্তু হঠাৎ জানা যায়, চাকরিটা হচ্ছে না। এ খবর বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামনের কাছে  ছুটে যান আসপিয়া। জানতে চান, সব ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও কেন তার চাকরি হবে না। ডিআইজি জানান, নিজেদের জমি না থাকলে চাকরি দেওয়ার আইন নেই। এরপর ভাঙা মন নিয়ে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ লাইন্সের সামনে বসে থাকেন আসপিয়া।

 

২০২০ সালে সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন আসপিয়া ইসলাম। ১৫ বছর ধরে উপজেলার খুন্না-গোবিন্দপুর গ্রামের একজনের জমিতে আশ্রিত হিসেবে থাকছেন তার পরিবার। আসপিয়ার বাবা সফিকুল ইসলাম মারা গেছেন। পরিবারে তারা তিন বোন, এক ভাই ও মা। তার ভাই পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তার আয় দিয়েই চলে সংসার।

 

গত ১৪, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর জেলা পুলিশ লাইনে শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন হিজলার খুন্না-গোবিন্দপুরের ভূমিহীন বাসিন্দা মৃত শফিকুল ইসলামের মেয়ে আসপিয়া ইসলাম। ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলেও উত্তীর্ণ হয়ে ২৪ নভেম্বর একই স্থানে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। পরদিন ২৫ নভেম্বর ভাইভার ফলাফলেও মেধা তালিকায় পঞ্চম হয়ে উত্তীর্ণ হন।

Manual8 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

২৬ নভেম্বর জেলা পুলিশ লাইনে চিকিৎসকরা ভাইভায় উত্তীর্ণদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এতেও উত্তীর্ণ হয় আসপিয়া। সর্বশেষ ২৯ নভেম্বর ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন সেন্ট্রাল হাসপাতালে চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষাতে তিনি উত্তীর্ণ হন। কিন্তু চূড়ান্ত নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আসপিয়া ও তার পরিবার ভূমিহীন হওয়ায় আসপিয়ার চাকরি হবে না বলে গত বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন হিজলা থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া।

 

Manual5 Ad Code

আসপিয়া বলেন, আমি যোগ্যতাবলে সাতটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলাম। এর মধ্যে হিজলা থানার ওসি জানান, চাকরি পেতে হলে নিজেদের জমিসহ ঘর দেখাতে হবে। কিন্তু আমাদের কোনো জমি নেই। আমরা একজনের জমিতে বছরের পর বছর ধরে বাস করছি। জমি নেই বলে আমার চাকরি হবে না এটা বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই বৃহস্পতিবারে দুপুরে ডিআইজি স্যারের কাছে গিয়ে তাকে অনেক অনুনয়-বিনয় করি। কিন্তু আইনে বাঁধা থাকায় কিছু করার নেই বলে জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি এসএম আকতারুজ্জামান বলেন, আসপিয়ার জন্য আমারও খুব কষ্ট হচ্ছে। আসপিয়া নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মেধাবী। তাকে পুলিশ বিভাগে পাওয়া গেলে ভালো হতো। কিন্তু পুলিশের চাকরিতে নিয়োগ হয় জেলা ভিত্তিক। অবশ্যই জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু আসপিয়ার জমি না থাকায় তাকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

Manual3 Ad Code

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেক মানবিক। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যদি বিষয়টি সদয় বিবেচনায় নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন তবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা করা যেতে পারে।


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code