সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ ৪ বারে অভিযান, অবৈধ মদ জব্দ

প্রকাশিত: ২:৩২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ ৪ বারে অভিযান, অবৈধ মদ জব্দ

Manual5 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’ নামের বার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ বোতল ‘অবৈধ’ মদ জব্দ করার তথ্য দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

 

শনিবার এনবিআরের চারটি গোয়েন্দা ইউনিটের যৌথ অভিযানে এসব ‘অনুমোদনহীন’ মদ জব্দের কথা জানিয়েছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহম্মেদ।

 

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি মদের বারে চালানো অভিযানের বিষয়ে তথ্য দিতে রাতে এনবিআরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আসেন তিনি।

Manual8 Ad Code

 

ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে চালানো অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, জব্দ করা মদের কোনো ‘বৈধ’ কাগজ তারা দেখাতে পারেননি। জব্দ ২৩০ পিস পণ্য মূলত একটি ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে, ইনফ্যাক্ট তাদের যে রেস্টুরেন্ট প্রেমিসেস, রেস্টুরেন্টের যে অবস্থান, তার বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঠিক ওই সময়ে আমাদের টিম সেখানে উপস্থিত হয় এবং এই ২৩০ পিস অনুমোদনবিহীন অ্যালকোহল বা লিকারের বোতলসহ এই গাড়িকে আটক করা হয়।

 

অভিযানের সময় ‘জিনসেং’ নামের প্যাকেটজাত পণ্য এবং এক কেজি ‘জাফরান’ জব্দ করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, এসব পণ্যের আমদানি বা কেনার কোনো কাগজও তারা দেখাতে পারেননি।

 

এদিন ফু-ওয়াং ছাড়াও ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনালের হলিডে ইন ও মার্গারিটা লাউঞ্জে অভিযান চালায় এ যৌথ দল।

 

রাজস্ব ফাঁকি রোধ ও অবৈধ মজুদবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), মূসক নিরীক্ষা এবং গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভ্যাট গোয়েন্দা) এ অভিযানে অংশ নেয়। এতে সহায়তা করেছে এসআরবি ও আনসার।

 

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন বারে অভিযান চালানো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী আহম্মেদ বলেন, আমাদের মুখ্য বিষয় হচ্ছে, আমাদের আমাদের কাছে যে সকল রিপোর্ট সংরক্ষিত আছে, আমাদের দাপ্তরিক পদ্ধতিতে এবং এছাড়াও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আমরা যে সকল তথ্য পাই, সে সকল তথ্য বিশ্লেষণ করে যাদেরকে মনে হয়েছে যে সকল প্রতিষ্ঠানে চোরাচালান করা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা অবৈধ পণ্য থাকতে পারে, থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সে সকল প্রতিষ্ঠানেই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। এখানে কোনো ব্যক্তি, সংঘ বা কোনো কনটেন্ট ক্রিয়েটর কোনো মুখ্য বিষয় একেবারেই নয়, এটা আমি নির্দ্বিধায় আপনাদেরকে নিশ্চিত করতে পারি।

 

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, একইভাবে আমি একটা কথা বলি, একটা মুদ্রার দুই রকম পিঠ থাকে। যদি এরকম কিছু আপনাদের কাছে মনে হয়, সেটা হতে পারে কাকতালীয়, মুদ্রার এক পিঠ। আরেক পিঠ হচ্ছে এটাকে হয়তো কাকতালীয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা হচ্ছে মুদ্রার আরেক পিঠ, এর বাইরে আর কিছুই নয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের সময় উত্তরার মার্গারিটা লাউঞ্জ থেকে ৬০৮ লিটার মদ পাওয়ার কথা তুলে ধরে বলা হয়, এগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এরমধ্যে মাত্র ৩৬ লিটার পণ্য হচ্ছে দেশীয় উৎপাদিত পণ্য। এই ৩৬ লিটারের যে পারচেজ ডকুমেন্টস, সেটাও তারা আমাদেরকে সঠিকভাবে প্রদর্শন করতে পারেনি বা যেটা প্রদর্শন করেছে সেটা যথেষ্ট সন্দেহের দাবি রাখে। এর বাইরে যে বিদেশি মদ ছিল, সেটি পুরোটাই অনুমোদনহীন এবং আমরা এটার পুরোটাই জব্দ করেছি।

Manual1 Ad Code

 

তেজগাঁও এলাকার হোটেল ‘হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনালে’ অভিযানের সময় এ হোটেলে পরিচালনা করা বারের লাইসেন্স হোটেলের নামে নয় বলে দেখতে পায় অভিযানকারী দল। এটা ‘হাবিব হোটেল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত হওয়ার কথা তুলে ধরেন সিআইআইডির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহম্মেদ।

 

তিনি বলেন, হতেই পারে একটা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড নেইম এবং তার ট্রেড নেইম আলাদা থাকতেই পারে, কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের যতদূর জানা আছে, নারকোটিক্স অধিদপ্তরের যথারীতি অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে, তো সে ধরণের কোনো অনুমোদন তারা আমাদেরকে প্রদর্শন করতে পারেনি।

 

গুলশানের ‘র ক্যানভাস বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ থেকে ২৯ লিটার অনুমোদনবিহীন মদ জব্ব করার তথ্য দেন তিনি।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ গুলশানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে’ যৌথ অভিযান চালায় সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং এসআরবি।

Manual7 Ad Code

 

বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত মদ ‘অননুমোদিত’ দুই গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে টস বন্ডের সে দুটির পাশাপাশি দুটি বৈধ গুদামও সিলগালা করা হয়।

 

এনবিআর কর্মকর্তারা শেখ নূর ইসলামকে ওয়্যারহাউজটির মালিক বললেও ফু-ওয়াং দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম বা তার পরিবারের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

 

দেশে থাকা মদ ও বারের ব্যবসায় নানা অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি কানাডায় নূর ইসলাম ও তার পরিবারের নাগরিকত্ব থাকার তথ্য ও সম্পদ মেলার খোঁজ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছিল এনবিআরের গোয়েন্দা ইউনিটগুলো।

 

তবে সম্প্রতি ঢাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনার পর তিনি এজন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী করলে তদন্ত কার্যক্রমে গতি বাড়ে।

 

ফু-ওয়াং বলছে, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের কন্যা দিশা ইসলামের বিয়ে শেখ নূর ইসলাম বা তার পরিবার মেনে নেননি। উক্ত বিয়ের পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম ও তার পরিবারের সকল প্রকার সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code