সিলেট ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৬
সুরমা মেইল ডেস্ক : দুই দফায় সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো ৩২ জনের মধ্যে ২৩ জনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এদের অনেকেই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি)।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, দুই দফায় সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো ৩২ বাংলাদেশির মধ্যে ২৩ জনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তারা সিঙ্গাপুরে ৪ থেকে ৮ বছর ছিল। সেখানে থাকাকালীন অবস্থায় তারা বিভিন্ন ধরনের নাশকতা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর পর উত্তরা (পূর্ব) থানা ও রামপুরা থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলা তদন্ত করে সিটিটিসি। তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে।
গোয়েন্দারা জানান, গত ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনও তথ্য না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৫ জনের সঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তাদেরকে আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। তারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর অনুসারী বলে স্বীকার করে। তবে তাদের আইএস সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এরপর চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল আরও পাঁচ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠায় সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন, মিজানুর রহমান ওরফে গালিব হাসান চৌধুরী (৩৮), রানা মিয়া ওরফে পাইলট (২৯), আলমগীর হোসেন (৩১), তানজিমুল ইসলাম (২৪) ও মাসুদ রানা ওরফে সন্টু খান (৩১)। তাদের প্রত্যেকেই ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কাজের অনুমতি নিয়ে সিঙ্গাপুরে যায়। তাদের বিরুদ্ধেও আইএস সংশ্লিষ্টতা ও বাংলাদেশে গুপ্তহত্যা ও সন্ত্রাসী হামলা চালানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে সিঙ্গাপুর পুলিশ। দেশে আসার পর এসব বাংলাদেশিকে আটক করে সিটিটিসি। পরে তাদের বিরুদ্ধে গত ৩ মে সন্ত্রাস দমন আইনে রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করা করা হয়।
সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। গত বছর ডিসেম্বরে যারা ফেরত এসেছিল তাদের মধ্যে আমিনুর, আব্দুল আলিম ও শাহ আলীর বাড়ি টাঙ্গাইলে। নুরুল আমিন, মাহমুদুল হাসান ও গোলাম জিলানির বাড়ি কুমিল্লায়। জাফর ইকবালের বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, আশরাফ আলী পাবনার, আকরাম হোসেন ঝিনাইদহ, আব্দুল আলীম চুয়াডাঙ্গা, সাইফুল ইসলাম ঢাকা, আলম মাহবুব কুড়িগ্রাম, ডলার পারভেজ চাপাইনবাবগঞ্জ এবং মোহাম্মদ জসিম মুন্সিগঞ্জের।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে জঙ্গি মতাদর্শ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। সেখানে গিয়ে কিছুটা উগ্র মতাদর্শের সঙ্গে উদ্ধুদ্ধ হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বা সিঙ্গাপুরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর কোনও তথ্য এখনও পাননি গোয়েন্দারা। তাদের কয়েকজনের কাছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর লেখা বই পাওয়া গেছে। তারা আনসারুল্লাহ’র মতাদর্শের অনুসারী। গ্রেফতারকৃতদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা মুফতি রাহমানীর বক্তব্য শুনতে ও তার লেখা বই পড়তে পছন্দ করতেন।
এসব বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানান, সিঙ্গাপুর ফেরত ২৩ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুটি মামলার তদন্ত শেষের দিকে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
সুত্র : অনলাইন।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি