সিলেটে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী শ্রুতি পিঠা উৎসব

প্রকাশিত: ২:১১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২৬

সিলেটে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী শ্রুতি পিঠা উৎসব

Manual7 Ad Code

সিলেট:
কুয়াশার আবরণে ষড়ঋতুর পরম্পরায় বাংলার প্রকৃতিতে আজ ফিরে আসে পিঠা পার্বণের উৎসব। বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠা উৎসব শুরু হয় অগ্রহায়নের শুরু হতে। অগ্রহায়ন মানেই কৃষকের গোলায় নতুন ধান। কৃষাণির ব্যস্ততা দিনভর।নতুন চালের পিঠার ঘ্রাণে আমোদিত চারদিক। গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ। পিঠা উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐহিত্য ও সংস্কৃতি। বাংলার কৃষিজীবী সমাজের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী শস্যোৎসব নবান্ন। অনাদিকাল থেকে কৃষিসভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম বাংলায় পালিত হয়ে আসছে এ উৎসব। পূর্বে অত্যন্ত সাড়ম্বরে উদযাপিত হতো নবান্ন উৎসব। সকল মানুষের সবচেয়ে অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে নবান্ন উৎসব সমাদৃত ছিলো। অগ্রহায়ণের শুরু থেকেই আমাদের গ্রামবাংলায় চলে নানা উৎসব-আয়োজন। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এ যেন সত্যি হৃদয়ের বন্ধনকে আরো গাঢ় করার উৎসব।

Manual3 Ad Code

 

সংগ্রাম আর সম্ভাবনায় শ্রুতির ২৫ উপলক্ষে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর সুবিদবাজারস্থ ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রতিবারের মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রুতি সিলেট আয়োজন করেছিল দিনব্যাপী পিঠা উৎসব ১৪৩২ বাংলা।

 

এবার শ্রুতি পিঠা উৎসবের পঞ্চবিংশতম আয়োজন। দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম অধিবেশন উদ্বোধন করেন বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী মোকাদ্দেস বাবুল এবং রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রানা কুমার সিনহা। প্রভাতি আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদ রানা, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব শামসুল বাসিত শেরো, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, বিশিষ্ট লোক গবেষক সুমন কুমার দাশ,শ্রুতি সিলেটের সমন্বয়ক সুমন্ত গুপ্ত প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রুতি সদস্য সচিব সুকান্ত গুপ্ত।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন শীতএলেই দিগন্তজোড়া প্রকৃতি হলুদ-সবুজ রঙে ছেয়ে যায়। পাকা ধানের পাশাপাশি প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দেয় গন্ধরাজ, মল্লিকা, শিউলি, কামিনী, হিমঝুরি, দেব কাঞ্চন, রাজ অশোক, ছাতিম আর বকফুল। এই শোভা দেখে আনন্দে নেচে ওঠে কৃৃষকের মন। নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি করা হয় পিঠা, পায়েস, ক্ষীরসহ হরেক রকম খাবার। সোনালি ধানের প্রাচুর্য আর বাঙালির বিশেষ অংশ নবান্ন জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ফুটে ওঠেছে অনন্য মহিমায়। কবি জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় লিখেছেন- ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায়/ মানুষ নয়- হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে/ হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে/ কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল ছায়ায়।’ করোনা কাল শেষে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনের বারতায় শীত জেঁকে বসেছে। মানুষ আবারো জেগে উঠছে শুদ্ধ সংস্কৃতির শুভ বারতায়। করোনাকে জয় করে আবারো এগিয়ে যাবে সমাজ এবং সংস্কৃতি।

 

দ্বিতীয় অধিবেশন দুপুর ২.৩০ প্রথম পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ, সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সুদীপ সেন বাপ্পু, উপ-পুলিশ কমিশনার গৌতম দেব প্রমুখ

Manual8 Ad Code

 

তাঁরা বক্তব্যে বলেন শ্রুতি পিঠা উৎসবের মাধ্যমে নগরে যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় তা আমাদের নগরবাসির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোলাহল পূর্ণ নগরের নগরবাসি একটি দিন উৎসবে আনন্দে আবহমান সংস্কৃতির সাথে এক হয়ে যায়।
দ্বিতীয় অধিবেশনে আরো উপস্থিত ছিলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

দিনব্যাপী আয়োজনের পিঠা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনীতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মিরর এর সম্পাদক আহমদ নূর, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংগঠক ই ইউ শহিদুল ইসলাম শাহীন প্রমুখ।

 

দিনব্যাপী আয়োজনে সমবেত পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে – গীতবিতান বাংলাদেশ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ সিলেট, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, দ্বৈতস্বর,পাঠশালা, আনন্দলোক, সংগীত নিকেতন, সুরের ভূবন, নৃত্যশৈলী, সুর সপ্তক, বেলাপ্রভা সংগীতালয়,ললিত মঞ্জরি, নৃত্যরথ প্রমুখ। আমন্ত্রিত সংগীতশিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামীম আহমেদ, বাউল সূর্যলাল, প্রদীপ মল্লিক, খোকন ফকির, পল্লবী দাশ মৌ, আশরাফুল ইসলাম অনি, অরুনিমা দাশ, তৃষা দাশ প্রমুখ।

Manual6 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

দিনব্যাপী পিঠা প্রতিযোগিতায় প্রায় অর্ধ শতাধিক স্টল অংশ নেয়। বাহারী রকমের পিঠার পসরা সাজিয়ে তারা বসেন। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে গিয়েছিল পিঠা উৎসবের দিনব্যাপী আয়োজনে। ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব ঘিরে নগর জুড়ে ছিলো উৎসব উৎসব আমেজ। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পিঠা উৎসবের পঞ্চবিংশতম আয়োজন শেষ হয়।

 

(সুরমামেইল/বিজ্ঞপ্তি)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code