সুনামগঞ্জে ছেলে-মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যা: পুলিশ

প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২৬

সুনামগঞ্জে ছেলে-মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যা: পুলিশ

Manual8 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরের তীর থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; যাদেরকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যা করা হয় বলে দাবি পুলিশের।

 

ঘটনার পর দিন বুধবার (১২ আগস্ট) শিশু দুটির বাবাকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম।

 

এরআগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেওয়ারিশ হিসেবে শিশু দুটির লাশ উদ্ধার হয়। পরে তাদের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।

 

Manual7 Ad Code

নিহতরা দিরাই উপজেলার পেরুয়া-মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুল হাসানের ৬ বছর বয়সি মোহাদ্দিস এবং ৪ বছর বয়সি তুলনা আক্তার।

Manual5 Ad Code

 

পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন সন্দেহজনক আচরণের কারণে কামরুলকে (৩৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। সংসারে অভাব-অনটন ও সন্তানদের ভরণপোষণ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে দুই শিশুসন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যা করা হয় বলে ভাষ্য পুলিশের।

 

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, গেল শুক্রবার স্ত্রী ফুলজান নেসার (৩০) সঙ্গে ঝগড়া করে দুই সন্তান মোহাদ্দিস ও তুলনাকে নিয়ে সিলেট চলে যান ফেরিওয়ালা কামরুল। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর রোববার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তবে সোমবার রাতে কামরুল বাড়ি ফিরলেও তার সঙ্গে দুই সন্তান ছিল না। বাড়ি ফিরে ফেইসবুক লাইভে কামরুল দুই সন্তান হারিয়ে গেছে বলে জানান।

 

স্বজনদের দাবি, বাড়িতে ফেরার পর থেকে কামরুলের আচরণ ও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা লক্ষ্য করা যায়। এরমধ্যে মঙ্গলবার আলাদা স্থান থেকে অজ্ঞাত দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায় তারা কামরুলের হারিয়ে যাওয়া দুই সন্তান।

 

এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রাম সংলগ্ন দেখার হাওর থেকে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা শিশুর লাশ সকালে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে সদর থানা পুলিশ। এদিন সকালে স্থানীয় লোকজন সন্দেহজনক আচরণের কারণে কামরুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

 

Manual4 Ad Code

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ি ফেরার পথে প্রথমে শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের সংলগ্ন হাওরে এক সন্তানকে এবং পরে গোবিন্দপুর গ্রামের কাছে দেখার হাওরে অপর সন্তানকে পানিতে ফেলে দেন কামরুল। পানিতে ফেলে দেওয়ার আগে দুই শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। অচেতন অবস্থাতেই তাদেরকে পানিতে ফেলে হত্যা করে বাড়ি চলে যান কামরুল।’

 

Manual5 Ad Code

পুলিশ জানায়, কামরুলের চার সন্তান রয়েছে। সংসারে আর্থিক অসচ্ছলতা এবং সন্তানদের ভরণপোষণ ও লালন-পালন নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হত। এরই জেরে দুই সন্তানকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন কামরুল।

 

ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ অথবা সুনামগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code