সিলেট ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৮, ২০২৬
ড. রেজা কিবরিয়া, শেখ সুজাত মিয়া ও মোঃ শাহাজাহান আলী। বাঁ থেকে
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়াকে শোকজ নোটিশকে কেন্দ্র করে বিএনপির পাল্টাপাল্টি বিবৃতি ও বক্তব্যে নতুন করে উত্তোপ্ত দেখা দিয়েছে বিএনপিতে। রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুই বিএনপি নেতাকে তিন দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন পূর্ব ভিডিও বার্তায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান ব্যবস্থা গ্রহনে ঘোষনা দেন।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ঘরে বিবেদ তুঙ্গে উঠেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুন্ম আহবায়ক শেখ সুজাত মিয়া ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন। রেজা কিবরিয়া বিরুদ্ধে অভিযোগকারী দুইজন শেখ সুজাতের ঘনিষ্ট ভাজন।
বিএনপির এই বিরোধের সুযোগে সুবিধাজনক অবস্থানে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী। হবিগঞ্জ-১ আসনের হিসাব নিকাশ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। এই আসনে এখন ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রেজা কিবরিয়া, শেখ সুজাত মিয়া ও শাহজাহান আলী সমান তালে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অবস্থা দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ড লড়াই হবে।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিতু মিয়া সেন্টু পৃথকভাবে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ডক্টর রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গনের অভিযোগ দেন। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডক্টর রেজা কিবরিয়াকে শোকজ নোটিশ প্রদান করেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলা বিএনপি দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেন। হাতে গুনা দু-একজন ব্যতিত প্রেসক্লাবের কোন সাংবাদিকদের দাওয়াত না দিলেও অনুষ্টিত সাংবাদিক সম্মেলনের ভিডিওর সরাসরি ফেসবুক লাইভ করা হয়।
নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা তার বক্তব্যে মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমান ও জিতু মিয়া সেন্টু অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা গ্রহনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি এ ঘটনার জন্য বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া’কে দায়ি করেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান বলেন, শেখ সুজাতের পিএস জিতু মিয়া সেন্টু ও বিএনপি নেতা মুশফিকুজ্জামান চৌধুরী নোমানকে কারন দর্শানোর জন্য তিন দিনের সময় দিয়ে নোটিশ করা হয়েছে। কেন তারা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনগড়া মিথ্যা অভিযোগ করলেন। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক জবাব না দিলে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর প্রেক্ষিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ সুজাত মিয়া ফোন না ধরলেও তিনি তার তার ফেসবুক আইডিতে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।
বিএনপির দুই প্রার্থীর অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তোপ্ত হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ঘরের বিবাদ নিরসন না করলে আগামী নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন সাধারণ নেতাকর্মীদের।
ইতিমধ্যে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। যার প্রভাব ও পরিচিতি রয়েছে তৃণমুল পর্যায়ে। এই নির্বাচনে শেখ সুজাত মিয়া বিএনপির জন্য ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছেন। ফলে তৃতীয় প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিএনপি গৃহ কোন্দল নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
(সুরমামেইল/এমএএ)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি