জৈন্তাপুরে নির্মাণের ৬ মাসের মাথায় ‘শুকসারী’ ঘাটে ধস

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

জৈন্তাপুরে নির্মাণের ৬ মাসের মাথায় ‘শুকসারী’ ঘাটে ধস

Manual8 Ad Code

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নীল নদ হিসেবে পরিচিত সারী নদীর লালাখাল পর্যটন স্পট। বাংলাদেশ পর্যটন উন্নয়ন করপোরেশনের অর্থায়নের স্থানিয় উপজেলা প্রশাসন পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে সারী নদীর লালাখাল বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় “শুকসারী” নামে নন্দিত এই ঘাট। ঘাট জনসাধারনের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্তের ৬ মাসের মধ্যে ঘাটের বেউজ, পিলার, লিন্টার ভেঙ্গে পড়ে এবং মুল স্থান হতে সরে যায়। সচেতন মহলের প্রশ্ন কাজের অনিয়ম এর ফলে ৬ মাসের মধ্যে ঘাটটি ভেঙ্গে গেল, পাহাড়ি ঢল ও আগত বন্যায় ঘাটটি যথা স্থানে খুঁজে পাওয়া যাবে না। পর্যটন খ্যাতের তহবিল শূন্য করতে ঘাট নির্মানের নামে প্রায় ২০লক্ষ টাকা গেলো।

সরেজমিনে ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে আলপকরে জানা যায়, জুন মাসে শুকসারী ঘাট বা জলঘাট টি তড়িগড়ি করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ করে টিকাদারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল কাদির এন্টারপ্রাইজ। ঘাট নির্মানে স্থানীয় নদী হতে কাঁদা মিশ্রিত বালু, নিম্ন মানের মরা পাথর এবং ছোট রড ব্যবহার মাধ্যমে ঘাট নির্মাণ করেছে টিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।

Manual2 Ad Code

তাদের নানা অনিয়ম দূর্নীতি দেখে স্থানীয় লালাখাল কালিঞ্জবাড়ী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী, নজির আহমদ, আব্দুর রহিম ও ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ সহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ জানানয় উপজেলা প্রশাননের কাছে। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত সুষ্ট প্রদক্ষেপ গ্রহন না করায় ঘাটটি উদ্বোধনের ৬ মাসের মধ্যে পিলার লিণ্টার ভেঙ্গে নদী দিকে মূল স্থান হতে সরে পড়েছে।

এলাকাবাসী জানান, কাজের শুরুতেই অনিয়মের জন্য একাধিকবার অভিযোগ জানালেও আমলে নেয়নি উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। তারা কৌশলে টিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিল উত্তোলনে সহযোগিতা করে। আগত বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে নদী গর্ভে বিলিন হবে বাংলাদেশ পর্যটন উন্নয়ন করর্পোরেশনের ২০লক্ষ টাকার শুকসারী নামক নির্মিত ঘাটটি।

এবিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসার হাসানুজ্জামানকে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি এবং একাধিকবার মুটোফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Manual7 Ad Code

পরবর্তীতে উপজেলা এলজিইডি’র সাব এসিষ্ট্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঘাট নির্মানে সম্পূর্ণ তদরকি আমি নিজেই করেছি। ঘাট সরে গেলে কি হবে ঘাট জায়গায় রয়েছে।

Manual5 Ad Code

ফাটলের ছবি ও ভিডিও উপস্থাপন করলে তিনি বলেন, এমন ঘাট নির্মানে ব্যয় অনেক বেশি, অল্প টাকায় নিমিত করার ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে।

এবিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিধি মোতাবেক এলজিইডি এবং টিকাদারী প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

Manual4 Ad Code

এবিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিম বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়েই তিনি উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রির্পোট পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code